ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জামাতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৪:৩১ পিএম
জামাতের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী?

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম দল জামাত। গত দুই দশক ধরেই বিএনপি-জামাত একে অপরের বিশ্বস্ত সহযোগী ছিল। বাংলাদেশের রাজনীতির নানা ঘটনাপ্রবাহেও এক ছিল দুটি দল। কিন্তু সম্প্রতি সিটি নির্বাচনের প্রার্থী দেওয়া নিয়ে তাঁদের এই ভাতৃপ্রতীম সম্পর্কে বিমাতাসুলম আবহাওয়ার হানা। সেই থেক এখন প্রশ্ন উঠেছে দুই সম্পর্কের সম্পর্ক, তথাপি জামাতের রাজনীতিরই ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।  

সম্প্রতি সিটি নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে বিরোধীতা করেই সিলেটে প্রার্থী দেয় জামাত। একইভাবে তারা প্রার্থী না দিলেও রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী স্থানীয় জামাতের কোনো সহযোগিতা পায়নি নির্বাচনে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের জন্য সিটি নির্বাচনে অংশ নেয়নি জামাত। বরং আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষিতে জোর বাড়াতেই তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু জামাতের জন্য তা হিতে বিপরীত হয়েছে।  

সিলেটে জামাত প্রার্থী দিয়ে পেয়েছে মাত্র ১০ হাজার ২৫৪ ভোট। অথচ তারা দাবি করেছিল এখানে তাদের ভোট ৫০ হাজারের বেশি। এই সিটিতে জামাতের চরম অসহযোগিতার পরও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের শক্তিশালী প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানকে হারিয়ে মাত্র ৪,৬২৬ ভোটে হারিয়ে জয় পেয়েছে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। রাজশাহীতে জামাতের সহযোগিতা না পেলেও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৭৮,৪৯২ ভোট। ১,৬৬,৩৯৪ ভোট পেয়ে বুলবুলের চেয়ে ৮৭,৯০২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নগরপিতা হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। কিন্তু বরিশালে জামাতের সহযোগিতার পরও চরম ভরাডুবি হয়েছে বিএনপির। বিএনপির প্রার্থী জামাতকে সঙ্গে নিয়েও পেয়েছেন মাত্র ১৩০৪১ ভোট। সেখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ ১০৯৮০৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছে। জামাতের সমর্থন পেয়ে বরিশালে জামানতই বাজেয়াপ্ত হয়েছে বিএনপি প্রার্থীর।

তিন সিটির ফল একটি বিষয়ই প্রমাণ করেছে বিএনপির জন্য জামাত আর কোনো ফ্যাক্টর না। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটা সময় জামাতের নির্দিষ্ট কিছু ভোট ছিল। কিন্তু গত ১০ বছরে যুদ্ধাপরাধে জামাত নেতাদের বিচার। স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে জামাতের প্রচার পাওয়া সহ নানা কারণেই দলটির এখন গ্রহণযোগ্যতা নেই বললেই চলে। আর তরুণ ভোটারদের কাছে জামাতের জনপ্রিয়তা শূন্যের কোথায় বলেই মনে করা হয়।

তিন সিটিতে জামাত বিএনপির বিরুদ্ধে গিয়ে এখন নিজেদের বর্তমান অযোগ্যতাই প্রমাণ করেছে। যেখানে তারা মনে করেছিল তিন সিটিতে ভালো ফল করে জোটে নিজেদের গুরুত্ব বাড়াবে সেখানে এখন তাদের জোটে থাকাই অর্থহীন প্রমাণ করল।

এখন থেকে বিএনপি জামাতকে তুচ্ছ করতেই পারে। তাদের বাতিলের খাতায় রাখলেও এখনো কিছু যাবে আসবে না। এখন জোট থেকে বাদ দিলেও কিছু বলার থাকবে না জামাতের। আর জোট থেকে বাদ দিলেও যে বিএনপির বর্তমান অবস্থার কোনো হেরফের হবে না তা দলটির নেতারা তিন সিটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে স্পষ্টভাবেই বুঝতে পেরেছে। তিনি সিটি নির্বাচনের মধ্যে দিয়েই জামাতের অস্তিত্ব বিলীনের সূচনা হলো বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। 


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ