ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সিটি নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতৃত্বের নির্বুদ্ধিতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
সিটি নির্বাচন ঘিরে বিএনপি নেতৃত্বের নির্বুদ্ধিতা

তিন সিটি নির্বাচনে বিএনপির কর্মকান্ডে সমন্বয়হীনতার চিত্র স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। সিটি নির্বাচনের আগে, নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া যায় না। স্থানীয় নেতৃত্বরা এক কথা বলছেন, তো কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন ভিন্নকথা। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে দূরত্ব দেখা গেছে প্রতিনিয়ত। বারবার নানাভাবে নির্বুদ্ধিতার পরিচয় দিয়েছেন বিএনপির নেতৃত্ব।

বরিশাল সিটির কথাই ধরা যাক। বিএনপির মেয়রপ্রার্থী মুজিবুর রহমান সরোয়ার সকাল থেকেই দু’একটি কেন্দ্র ঘুরে নির্বাচন বর্জনের নাটকীয় ঘোষণা দেন। ভোট কারচুপি, এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে বেল ১২ টায় প্রেসক্লাবে দলীয় প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি। যেখানে বিজয়ী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ পেয়েছেন ১০৯৮০৩ ভোট, সেখানে সরোয়ার পেয়েছেন ১৩০৪১ ভোট। মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সরোয়ারের। নির্বাচন বর্জন না করলে হয়তো এত ব্যাপক ভোটে পরাজয় হতো না, জামানত বাজেয়াপ্তের লজ্জাও পেতে হতো না। সরোয়ারের কর্মকাণ্ডে কেন্দ্রীয় বিএনপির নেতাদের কোনো নির্দেশনার দেখা মেলেনি।

রাজশাহীতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল দিনভর আরেক নাটক করেন। অনিয়মের কথা তুলে এক কেন্দ্রে গিয়ে অবস্থান নেন। নিজের ভোটটিও দেননি তিনি। রাজশাহী সিটিতে বুলবুল নাটকের মধ্যে দিয়েই নির্বাচন শেষ হয়। দিনশেষে ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী বুলবুল পেয়েছেন ৭৮,৪৯২ ভোট। ১,৬৬,৩৯৪ ভোট পেয়ে লিটনের চেয়ে ৮৭,৯০২ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নগরপিতা হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এই ফলাফলই প্রমাণ করে বিএনপি প্রার্থী দিনভর কর্মকাণ্ড শুধুই নাটক। কারণ সত্যিই জনপ্রিয় হলে ভোটের ব্যবধান এতটা হতো না।

সিলেটে নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই দিনভর একের পর এক ভোট গ্রহণের নানা অভিযোগ করতে থাকেন বিএনপির সমর্থিত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষ হলে আরিফুল হক চৌধুরী নতুন নির্বাচনের সুর তোলেন। রাতের দিকে নির্বাচনী আবহাওয়া পাল্টে গেলে সেই সুর যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। রাতের দিকে ধানের শীষ জয়ের আশা জেগে ওঠায় উল্লাসে মেতে ওঠেন আরিফুল হকসহ বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনের আগে জনগণের রায়ের ওপর ভরসা না রেখে সরকারকে দোষারোপ করাই যেন ছিল বিএনপির নির্বাচনী লক্ষ্য।

তিনটি সিটিতে একটি বিষয়ই স্পষ্ট বিএনপিরে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা। কেন্দ্রীয় নেতাদের কোনো দিকনির্দেশনা মেয়র প্রার্থীদের কাছে ছিল কিনা এখন সেটাই প্রশ্নসাপেক্ষ।

নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচনের আগে থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছেন। কিন্তু ফলাফল পেয়েই বলেন, সিলেটে ঠিক আছে, কিন্তু রাজশাহী, বরিশালে ঠিক হয়নি নির্বাচন। একই সুর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কণ্ঠেও। নির্বাচন শেষে আজ সকালে বিএনপির মহাসচিব সিলেট বাদে দুই সিটিতে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানান। সিলেটে বিএনপি জয় লাভ করেছে তাই সিলেট নির্বাচন নিয়ে দলটির কোনো উচ্চবাচ্য নেই। অপরদিকে বাকি দুই সিটিতে পরাজয়ের কারণে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। এ যেন বিএনপিরি ’জিতলে রাজি, হারলে নারাজ’ নীতি। জাতীয় রাজনীতিতে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল দাবি করা একটি দলের নেতৃত্বের এমন খামখেয়ালি পূর্ণ বক্তব্য নির্বুদ্ধিতাই হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ