ঢাকা, সোমবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৫ আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঐক্যে বিজয়ী আওয়ামী লীগ, অনৈক্যে পরাজিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:০০ পিএম
ঐক্যে বিজয়ী আওয়ামী লীগ, অনৈক্যে পরাজিত

সিলেট সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। গতকাল অনুষ্ঠিত তিন সিটি নির্বাচনে একমাত্র সিলেটেই পরাজিত হয়েছে আওয়ামী লীগ। যখনই আওয়ামী লীগে অনৈক্য হয়, অভ্যন্তরীণ কোন্দল হয় তখনই যে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটে এই পরাজয় তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

শুধু সিটি নির্বাচনেই নয়, এর আগে জাতীয় নির্বাচনেও দলীয় কোন্দলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯১ সালে নির্বাচনের সময় মনোনয়ন নিয়ে গ্রুপিং এর সমস্যা ছিল আওয়ামী লীগে। এর ফলে নির্বাচনে পরাজিত হয় আওয়ামী লীগ। পরবর্তী নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়েই জয় পায় আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল দলটি। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনে তাঁরা বিএনপি-জামাত জোট সরকারের কাছে পরাজিত হয়। সেবারও দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব ও অন্তর্কোন্দলের সমস্যা ছিল।

এবার আসন্ন একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন দলীয় ঐক্যের ওপর। নেতাকর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশ, কোনো রকম অন্তঃকলহ করা যাবে না। নির্দেশটির প্রতিফলন আমরা সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সিটি নির্বাচনে দেখেছি।

এই বছর অনুষ্ঠিত খুলনা, গাজীপুর, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে একমাত্র সিলেট ছাড়া সবগুলোতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওই চারটি সিটিতে আওয়ামী নিজেদের দলীয় কোন্দল নিয়ন্ত্রণে আনতে পেরেছিল। কিন্তু সিলেটে দলীয়ে নেতাকর্মীদের সহযোগিতা না পাওয়ায় পরাজিত হয়েছেন কামরান। একই ঘটনা ঘটেছিল কুমিল্লা সিটি নির্বাচনেও।

তাই দলীয় কোন্দল নিয়ন্ত্রণে সব সিটি নির্বাচনের আগেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এই উদ্দেশ্যে গাজীপুর সিটি নির্বাচনের আগে দফায় দফায় মিটিং হয়েছে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের প্রতিদ্বন্দ্বী আজমতউল্লাহকে ঢাকায় ডেকে নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরের পক্ষে কাজ করায় তাঁকে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য করে পুরস্কৃতও করা হয়েছে। এছাড়া খুলনা সিটি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, যারাই দলীয় কোন্দল সৃষ্টি করবে তাঁদের বহিষ্কার করা হবে।

কিন্তু সিলেটে অন্তর্কোন্দল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগ যখন বিভক্ত হয়ে যায় তখন আওয়ামী লীগের পরাজয় যে একেবারে নিশ্চিত, তা আরেকবার সিলেটে সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো যা জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের ১৬৭টি থেকে ১৭৫টি আসনে আওয়ামী লীগের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ আছে। এই আসনগুলোতে একাধিক প্রার্থী রয়েছেন এবং আশঙ্কার বিষয় হলো দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আগেই তাঁরা নিজেদের স্বপক্ষে প্রচারণা শুরু করেছেন। এসব প্রচারণা যদি এখনই বন্ধ না করা যায় তাহলে সামনে আওয়ামী লীগকে কঠিন মূল্য দিতে হবে। অতি সত্ত্বর বিরোধপূর্ণ আসনগুলোতে একক প্রার্থী দেওয়া এবং সকল বিরোধ মিটিয়ে মনোনীত প্রার্থীদের হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করাই এখন আওয়ামী লীগের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে জিততে না পারলে জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে সিলেট সিটি নির্বাচনের মতো ফল ভোগ করতে হবে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ