ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১, ৩০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সমাধান শাজাহান খান?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০১:০৫ পিএম
সমাধান শাজাহান খান?

গতকাল থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামিয়ে তাদের শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহবান জানিয়েছে সরকার। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও তৎপরতা গ্রহণ করেছে ।

বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আন্দোলনরত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সরকার তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। তাই, এই আন্দোলনকে আর নৈরাজ্যের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত হবে না।

তবে এই আন্দোলনের একমাত্র সমাধান মনে করা হচ্ছে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানকে। আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা চাইছে, কিছু একটা অর্জন করে ঘরে ফিরতে। কারণ তাদের নয় দফা দাবির বেশিরভাগই ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন হওয়ার মতো। তাই, অন্তত একটা অর্জন নিয়ে ঘরে ফিরতে চায় শিক্ষার্থীরা।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাস চাপায় যে দু’জন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে, তাদের অভিভাবকদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের দাবি নৌ পরিবহন মন্ত্রীর অপসারন। আপাতত নৌ পরিবহন মন্ত্রীকে অপসারন করা হলেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উইন উইন সিচ্যুয়েশন তৈরি হবে, ফলে তাঁরা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবে।

এদিকে সরকারের অনেক সিনিয়র নেতারাও এই আন্দোলনকে প্রশমিত করার জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগকেই সঠিক বলে মনে করছে। তবে সরকারের আরেকটি পক্ষ নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে না। কারণ তাঁরা মনে করছে, এভাবে আন্দোলনের মুখে শাজাহান খান পদত্যাগ করলে ভবিষ্যতে আবার আন্দোলন হলে আরেক মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হতে পারে। তাই তারা মন্ত্রীকে পদে রেখেই এই সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী।

এছাড়া শাজাহান খানের নেতৃত্বে পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ রয়েছে। তাই, তিনি পদত্যাগ করলে সড়কে আবার নতুন করে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া সরকারের একটি বড় ভোট ব্যাংক ও রয়েছে তাঁর হাতে। তাই নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি নিয়ে সরকারও চিন্তা করছে।

সরকারের কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এ বিষয়ে শাজাহান খানের সাথে কথা বলেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার একমাত্র সমাধান যদি নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগেই হয়, সেক্ষেত্রে শাজাহান খানও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্মতি দিয়েছেন। তবে এর রাজনৈতিক ফলাফল সরকারের অনুকূলে যাবে না বলে তিনি মনে করছেন।

সামগ্রিকভাবে এই আন্দোলনে শাজাহান খানকেই একমাত্র সমাধান মনে করছে সবাই। তবে সরকার উদ্বিগ্ন এই কারণে, কারণ এই আন্দোলনকে অন্য খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেজন্য শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের দ্রুত সমাধান করতে চায় সরকার। সমস্যার দ্রুত সমাধানে শাজাহান খানই কি বলির পাঠা হবেন কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার/জেডআই