ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আন্দোলন উসকে দিচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট ২০১৮ শনিবার, ০৪:০২ পিএম
আন্দোলন উসকে দিচ্ছে মূলধারার গণমাধ্যম

আন্দোলনকারীদের ওপর কোনো ধরনের বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর এমন সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

প্রধানমন্ত্রী কখনোই নিজ দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বল প্রয়োগ করতে চান না। কিন্তু দেশের একটি বিশেষ মহল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে ক্রমাগত উসকে দিচ্ছে। দেশের শীর্ষ দুটি দৈনিক, তথাকথিত সুশীল সমাজ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে। এই উদ্দেশ্যে গতকাল শুক্রবার দৈনিক প্রথম আলো একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ‘ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর হতে যাচ্ছে সরকার’ শিরোনামের সংবাদটিতে বলা হয়, কৌশলগত কারণে সরকার চুপ থাকলেও চলমান পরিস্থিতিতে সরকার শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে। ভাবমূর্তির সংকট তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় সরকার আন্দোলন থামাতে কঠোর হতে যাচ্ছে। কিন্তু বল প্রয়োগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া নির্দেশ প্রথম আলোর বক্তব্যকে ভুল প্রমাণ করল। এটিও প্রমাণিত হলো প্রথম আলোর সংবাদটি ছিল আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার জন্য উদ্দেশ্য প্রণোদিত। শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করতেই এমন সংবাদ পরিবেশন করেছে তাঁরা।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে সততার সঙ্গে ব্যাখ্যা করে বাংলা ইনসাইডার গতকাল শুক্রবার একটি সংবাদ প্রকাশ করে। ‘কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রীর ‘না’’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটিতে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান আন্দোলনে এখনই কঠোর অবস্থানে যেতে চায় না সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলন থামাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কঠোর অবস্থানের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বুঝিয়ে ক্লাসরুমে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও সেখানে উল্লেখ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন মাতৃস্থানীয় নারী। মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি ‘ডটার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি পেয়েছেন। বাস চাপায় রমিজ উদ্দিন কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের জন্য যে সকল দাবি জানিয়েছেন তা সব কটি পূরণেই প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন। আজ সকালেই প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কলেজটিকে পাঁচটি বাস হস্তান্তর করা হয়েছে। লাইসেন্সবিহীন চালক, ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। এছাড়া শিক্ষার্থীদের নয়টি দাবি পূরণেই সরকার আন্তরিক বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কিন্তু এর পরও যারা আন্দোলনকে জিইয়ে রাখতে ক্রমাগত উসকানি দিচ্ছে তাঁদের অন্য কোনো দূরভিসন্ধি আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ