ঢাকা, রোববার, ২১ অক্টোবর ২০১৮, ৬ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ড. কামালের নেতৃত্ব মানবে বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৮:০০ পিএম
ড. কামালের নেতৃত্ব মানবে বিএনপি?

বিএনপিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দাতা দেশ পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে। এই পাঁচ পরামর্শ বিএনপি মানলে, তাদের সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবির প্রতি ঐ দাতা দেশগুলো সমর্থন জানাবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তাহলেই দাতা দেশগুলো বিএনপির পাশে থাকবে। বিএনপির উচ্চপর্যায়ের কয়েকজন প্রতিনিধিদের কাছে মার্কিন দূতাবাসের কয়েকজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই পাঁচ পরামর্শ উপস্থাপন করেন। বিএনপির প্রতিনিধিরা অবশ্য বলেছেন, দলীয় ফোরামে কথা বলে তারা এব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, পাঁচ পরামর্শের প্রধান পরামর্শ হলো ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বৃহত্তর একটি জোট গঠন এবং বিএনপির ঐ জোটে থাকা।

বিএনপির প্রতি মার্কিন দূতাবাসের দ্বিতীয় পরামর্শ হলো, ২০ দলীয় জোটের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখে, জামাতকে বাইরে রেখে নতুন জোট গঠন।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, নতুন জোটের শরিকদের অন্তত দেড়শ আসন ছেড়ে দেওয়া। এবং সুশাসন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিন্ন নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন।

বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি রাজনৈতিক এবং নির্বাচনী বিষয়ে না এনে, এটিকে আদালতের মাধ্যমে ফয়সালা করা।

এবং তারেক জিয়াকে আপাতত মূল রাজনৈতিক প্রবাহের বাইরে রাখা।

বিএনপি এবং কূটনীতিক পাড়ার একাধিক সূত্র বলছে, গতকাল বুধবার মার্কিন দূতাবাসের দুজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খানের দীর্ঘ বৈঠক হয়। এই বৈঠকে, আগামী নির্বাচনে সরকারের বিরুদ্ধে একটি সর্বদলীয় প্লাটফরম গঠনের জন্য তাগিদ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ছয় মাস ধরে মার্কিন দূতাবাস আগামী নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক হয়, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে কথা বলছে। এই সব আলাপ-আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, মার্কিন দূতাবাস এই প্রস্তাবমালা তৈরি করেছে। সূত্র মতে, সব দল জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে, নির্বাচলে কারচুপি এবং ভোট কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনাগুলো বন্ধ হবে। মার্কিন দূতাবাস মনে করে, সব দল অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিলে নির্বাচন কমিশনও তাদের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসবে। আর নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনার জন্য সবার আগে বিরোধী পক্ষের ঐক্য প্রয়োজন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দলের দাবি হলেও, ঐ দাবিতে বৃহত্তর ঐক্যের বড় বাধা জামাত। মার্কিন  দূতাবাস মনে করে, বিএনপির সঙ্গে জামাত থাকার কারণে উদার নৈতিক গণতান্ত্রিক দলগুলো এই দলটির সঙ্গে ঐক্য গড়তে অস্বস্তি বোধ করে। সূত্র মতে, ড. কামাল হোসেন, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ বেশ ক’জন ‘জনপ্রিয়’ নেতা মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধিদের বলেছেন, বিএনপি জামাত থেকে বেরিয়ে এলেই কেবল বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনে তাঁরা রাজি। তবে, বেশ ক’জন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি মার্কিন দূতাবাসকে এরকম জোটের নেতৃত্ব বিএনপির হাতে থাকা উচিত নয় বলে মত দিয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বে জোট হলে, সুশাসন এবং গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হবে না বলেও মত দিয়েছেন সুশীলরা। সুশীলরা কিছুদিনের জন্য হলেও, আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরে কারও সরকার পরিচালনার নেতৃত্বে থাকা উচিত বলেও মনে করেন। মার্কিন দূতাবাস অবশ্য মনে করে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো নির্বাচনের ব্যাপারে বিএনপির ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। সূত্র মতে, অধ্যাপক বি. চৌধুরীর নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার ব্যাপারে বিএনপির নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও ড. কামালের ব্যাপারে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক বলেই অনেকে মনে করছেন।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ