ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ড. কামাল বনাম বি. চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৬:০৫ পিএম
ড. কামাল বনাম বি. চৌধুরী

বাংলাদেশে তৃতীয় শক্তির উত্থান নিয়ে বহুদিন ধরেই কাজ করছে সুশীল সমাজ এবং বিভিন্ন পশ্চিমা দেশের দূতাবাস। আর এদের উদ্যোগের ফলেই গত বছর হঠাৎ করেই আবির্ভাব ঘটে যুক্তফ্রন্ট নামক আনকোরা এক জোটের। ওই সময় বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট ও নবগঠিত যুক্তফ্রন্টের আহ্বায়কের বাসায় পদধূলি দেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। যুক্তফ্রন্ট নিয়ে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতার সঙ্গে ঐক্য পোষণ করেন গণফোরাম প্রেসিডেন্ট। পরে একটি যৌথ বিবৃতিতেও স্বাক্ষর করলেন দুই নেতা। যুক্তফ্রন্ট নিয়ে আশায় বুক বাঁধে তৃতীয় শক্তির স্বপ্নসারথীরা। কিন্তু এরপর শুধুই ভাঙন আর বিভেদের ইতিহাস।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বি. চৌধুরীর বাড়িতে গিয়েছিলেন ড. কামাল। এরপর প্রায় অর্ধ বছর কেটে গেছে। অনেক জোয়ার এসেছে, ভাটাও হয়েছে। পানি গড়িয়েছে বহুদূর। আর সদাপরিবর্তনশীল ড. কামালের মনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। গত কয়েকমাস ধরেই ড. কামাল বলে আসছেন তিনি ও তাঁর গণফোরাম যুক্তফ্রন্টে নেই।

সম্প্রতি ড. কামাল হোসেন দৃঢ়কণ্ঠেই বলেছেন, কোনো ঐক্যে গিয়ে কারও নেতৃত্ব মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নতুন এক ঐক্য প্রক্রিয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ড. কামাল। এই প্রক্রিয়ার জন্য ২২ সেপ্টেম্বর মহাসমাবেশ ডেকেছেন গণফোরাম প্রেসিডেন্ট।

আর ড. কামাল হোসেনের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বি. চৌধুরী। বিএনপির সাবেক এই নেতার মতে, ড. কামাল তাঁর বাসায় এসেছিল এবং বলেছিল আপনার (বি. চৌধুরী) নেতৃত্বেই জোট করব। সেভাবেই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছিলেন ড. কামাল। এখন তিনি কীভাবে নিজের কথা ঘুরিয়ে ফেলেন?

বিশ্লেষকরা বলছেন, বি. চৌধুরী যেমন কামাল হোসেনের নেতৃত্বে মেনে নিতে পারছেন না। তেমনি ড. কামালও পারছেন না বি. চৌধুরীর নেতৃত্ব মেনে নিতে।

অবশ্য ড. কামাল হোসেনের মতে, তৃতীয় শক্তির উত্থানের জন্য সুশীল সমাজ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে সমর্থন প্রয়োজন তা অর্জনে বি. চৌধুরীর যথেষ্ট ঘাটতি আছে। তৃতীয় শক্তির নেতৃত্বে বি. চৌধুরীকে মেনে নেবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ড. কামালের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ পক্ষপাতের কথা স্বীকার করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও।

কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এও বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন বি. চৌধুরী। দলটি থেকে বহিষ্কৃত হলেও সেখানে এখনো অনেক ভক্ত আছে তাঁর। তৃতীয় শক্তির নেতৃত্বে বি. চৌধুরী থাকলে বিএনপির বড় একটি অংশ সেখানে যোগ দিতে পারে। আর অংশবিশেষ বিএনপির এমন যোগদানে কার্যকর রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে তৃতীয় শক্তি। নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলতে পারবে এমন জোট। কিন্তু ড. কামাল নেতৃত্বে থাকলে পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলোর সমর্থন পেলেও কার্যকর কোনো জোট হবে না তৃতীয় শক্তি। ভোটের রাজনীতিতে কোনো মূল্যই থাকবে না এমন তৃতীয় শক্তির।

ড. কামালের ঐক্য জোটের ঘোষণায় ২২ সেপ্টেম্বর মহা সমাবেশ ডাকার পর অবশ্য বসে নেই বি. চৌধুরীও। গতকাল বুধবার রাতেই বি. চৌধুরী নড়েচড়ে বসেছেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার জন্য সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই সারাদেশে কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে যুক্তফ্রন্ট।

জানা গেছে, গতকাল রাতেই বি. চৌধুরীর বাসায় যুক্তফ্রন্টের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ড. কামাল হোসেনের গণফোরামের কেউ ছিল না। উপস্থিত ছিল শুধু বি. চৌধুরীর নাগরিক ঐক্য, জাসদের আব্দুর রবসহ যুক্তফ্রন্টের অন্যান্য নেতারা। ওই বৈঠক থেকেই বি. চৌধুরী ফোন করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে। বি. চৌধুরী বিএনপি মাহসচিবকে বলেন, তারা সবসময়ই ঐক্যের পক্ষ্যে। তবে ঐক্য নিয়ে অনৈক্য তারা কোনোভাবেই চান না। ড. কামালের সঙ্গে ঐক্য নিয়ে কোনো সমাধানে আসা যায় কিনা এ বিষয়ে কথা বলতে বিএনপি মহাসচিবকে অনুরোধ করেন বি. চৌধুরী। একই সঙ্গে বি. চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তফ্রন্টের কেউ কামাল হোসেনের সঙ্গে যেতে রাজি না।

যুক্তফ্রন্ট গঠন নিয়ে গভীর আশায় বুক বেঁধেছিল তৃতীয় শক্তি প্রত্যাশীরা। কিন্তু কামাল হোসেন ঐক্য প্রক্রিয়ার ঘোষণার পর ওই আশায় হঠাতই হতাশার আবির্ভাব। তৃতীয় শক্তি নিয়ে ঐক্যে এই বিভক্তি নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। কে নেতা হবে তা নিয়েই গভীর সংকটে তৃতীয় শক্তি। এই নেতৃত্ব নিয়ে সংকট যে শিগগিরিই কাটছে না তা বলাই বাহুল্য। সেক্ষেত্রে দীর্ঘায়িত হয়ে পড়ল তৃতীয় শক্তির আবির্ভাব। 

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ