ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার কৌশল আ. লীগের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার কৌশল আ. লীগের

রাজনীতিতে তৃতীয় শক্তির উত্থান ঠেকাতে আওয়ামী লীগ বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার কৌশল নিয়েছে। বিএনপিকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দেবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো, বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করা এবং তৃতীয় শক্তি থেকে দূরে রাখা। আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে এই ধারণা পাওয়া গেছে।

এবার বিএনপি বাধাহীন ভাবেই তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে পেরেছে। সকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিকেলে বিএনপি জনসভা করেছে। এর আগের বছরই বিএনপিকে জিয়াউর রহমানের কবরে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হয়নি। বেগম জিয়া দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হবার পর বিএনপি অন্তত: ৮ বার জনসভার অনুমতি চেয়েও পায়নি।

এবার বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা যেকোনো রাজনৈতিক দলের গণতান্ত্রিক কর্মসূচিকে স্বাগত জানাই। শান্তিপূর্ণ কোন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ সরকার কখনো বাঁধা দেয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনগণের শান্তি-শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটালে এটি দমন করা সরকারের দায়িত্ব।’

তবে আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা বলছেন, তৃতীয় শক্তিকে ম্লান করতেই বিএনপিকে মাঠে নামতে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগ বিএনপি নয় বরং তৃতীয় শক্তির ব্যাপারে কিছুটা চিন্তিত। কারণ, এদের পিছনে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। বিএনপিকে কোনো কর্মসূচি পালন করতে না দেয়া হলে, বিএনপি হয়তো বি. চৌধুরী এবং ড. কামাল হোসেনের দিকেই ঝুঁকবে। আওয়ামী লীগ, অধ্যাপক চৌধুরীদের সাথে বিএনপির ঐক্য চায় না। বরং, বিএনপি রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনমুখী হোক এটা চায়। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে পারলে বিএনপিও তৃতীয় শক্তির দিকে ঝুঁকবে না। বরং বিএনপির কর্মসূচি তৃতীয় শক্তির অবস্থানকে দুর্বল করে দেবে। এ রকম একটি চিন্তা থেকেই বিএনপির ব্যাপারে সরকার শিথিল অবস্থান গ্রহণ করেছে। এই প্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হবে বলেই আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন। এমনকি কেউ কেউ বলছে, বেগম জিয়াও হয়তো কারাগার থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে বিএনপিকে ছাড় দেওয়ার সঙ্গে, দলটির নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নটি জড়িত। বিএনপি যদি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নির্বাচনে যেতে রাজি হয়, তাহলে সরকার বিএনপিকে আরও ছাড় দেবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে আলোচনার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু একাধিক সূত্র বলছে, সরকার বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে। বেগম জিয়া এবং তারেক জিয়াকে বাদ দিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে আসার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএনপি দলগত ভাবে কিছু করতে পারবে না। তবে আদালত যদি বেগম জিয়া ও তারেক জিয়াকে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করে, সেক্ষেত্রে তাদের কিছু করার নেই। অন্যদিকে বিএনপিও ড. কামাল-অধ্যাপক চৌধুরীর অধীনে যেতে রাজি নয়। এজন্য নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে তারা সরকারের সাহায্য নিচ্ছে। আজ বিএনপির জনসভা তারই একটি দৃষ্টান্ত। তৃতীয় শক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সব সময়ই এক হয়।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ