ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বামদের মান ভাঙতে তিন কমরেড

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৬:০১ পিএম
বামদের মান ভাঙতে তিন কমরেড

বাম রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব দিলেন তিন কমরেড মন্ত্রীকে। এই তিন মন্ত্রী হলেন বেগম মতিয়া চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন এবং নুরুল ইসলাম নাহিদ। সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আজ সোমবার মন্ত্রী সভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলেন। বলেন, ‘আপনার কমরেডরা এ রকম করছে কেন? ওদের সঙ্গে কথা বলেন। জিজ্ঞেস করেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের কি আপনারা আবার ক্ষমতায় আনতে চান নাকি?’ বেগম মতিয়া চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করবেন বলে জানান। সাবেক এই ন্যাপ নেত্রী বলেন, ‘বামরা বুঝতে পারছে না যে, আওয়ামী লীগ না থাকলে, তাঁদেরও অস্তিত্ব থাকবে না।’ বেগম মতিয়া চৌধুরী শিগগীরই মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমসহ অন্যান্য বাম নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মেনন ভাই আর নাহিদকেও সঙ্গে নেন।’ এসময় প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ফরহাদকে (কমিউনিটি পার্টির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক) স্মরণ করে বলেন, ‘ফরহাদ ভাই রাজনীতিটা বুঝতো। উনি থাকলে আমার অনেক উপকার হতো।’

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগ সভাপতি বেগম মতিয়া চৌধুরীকে বলেন, ‘সিপিবি আমাদের সারাজীবনের মিত্র। ওরা বিগড়ালো কেন।’ উল্লেখ্য, এর আগে গতমাসে বামদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিপিবি অফিসে গিয়ে বৈঠক করেছিলেন। কিন্তু ঐ বৈঠকে তেমন কাজ হয়নি। বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা ইতিমধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এবার এজন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রীসভার তিন বামপন্থীকে দায়িত্ব দিলেন।

বেগম মতিয়া চৌধুরী কমিউনিস্ট পার্টি নিয়ন্ত্রিত ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এবং ডাকসুর ভিপি ছিলেন। আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে তিনি ‘অগ্নিকন্যা’ উপাধিতে ভূষিত হন। ন্যাপ থেকে তিনি জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের যোগ দেন। রাশেদ খান মেনন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। তিনি চীনপন্থী কমিউনিস্ট হিসেবেই পরিচিত। সারাজীবন আওয়ামী লীগ বিরোধিতা করলেও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেন। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদও ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা ছিলেন তিনি। ৯২ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে বামদের বিশেষ করে সিপিবির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে সিপিবি, ন্যাপ বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। ৭২ এর জাতির পিতার ডাকে বামরা দেশ গড়ার সংগ্রমে নেমেছিল। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার পর প্রথম প্রতিবাদ করেছিল কমিউনিস্টরাই। ৮২ তে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সভাপতির বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছিলেন মোহাম্মদ ফরহাদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রাক্তন ছাত্র ইউনিয়নের প্রতি দুর্বল বলে আওয়ামী লীগের অনেকে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন।  


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ