ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচনকালীন সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার, ১০:০০ এএম
নির্বাচনকালীন সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা

নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার জন্য সরকার নিয়েছে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা। আগামী অক্টোবরে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কর্মপরিকল্পনার কথা জানাবেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দাতা দেশগুলো এখনই জানতে চাচ্ছে, আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা কি, নির্বাচন কিভাবে হবে, নির্বাচনকালীন সরকার কি করবে। তাই তফসিল ঘোষণার আগেই তাদের কাছে দেওয়া হবে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিকল্পনা।

অবশ্য নির্বাচন নিয়ে সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা বা সংলাপে যাবে না। তবে রাষ্ট্রপতি যদি নির্বাচন নিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসতে চায়, তিনি সেটা পারবেন। এ বিষয়ে সরকার কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। চাইলে সেই আলোচনায় বিএনপিও অংশগ্রহণ করতে পারবে।

নির্বাচনকালীন সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনার মধ্যে আছে: 

১. আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সংসদ অধিবেশন বসবে, এই অধিবেশন বসার পর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করবে। আর তফসিল ঘোষণার দিন থেকেই এমপিরা এমপি পদে থাকলেও এমপিদের কোনো ক্ষমতা থাকবে না। এমপিরা তাদের এলাকায় কোনো বাড়তি সুযোগ সুবিধা পাবেন না, কোনো ধরনের প্রটোকল পাবেন না।

২. নির্বাচনকালীন সরকারের যারা মন্ত্রী থাকবেন, তারা যদি নির্বাচনী এলাকায় যান তাহলে সেখানে তারা কোনো মন্ত্রীর মর্যাদা বা মন্ত্রীর সুযোগ-সুবিধা পাবনে না।

৩. নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করার পর থেকে সরকার কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্বোধন বা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবে না।

৪. তফসিল ঘোষণার পর কোনো এলাকার জন্য বরাদ্দ, বিশেষ বরাদ্দ বা উন্নয়নের কোনো অঙ্গীকার সরকার করতে পারবে না।

৫. এই সময়ের মধ্যে সরকার কোনো ধরনের নীতি নির্ধারনী, উন্নয়ন পরিকল্পনা বা নীতি নির্ধারনী কর্মসূচি গ্রহণ করবে না।

৬. নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে মন্ত্রীরা অন্য কোনো নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা চালাতে পারবেন না।

৭. যে সমস্ত সরকারি কর্মকর্তা নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন, যেমন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব ইত্যাদি কর্মকর্তাগণ নির্বাচন কমিশনের আওতায় দায়িত্ব পালন করবেন।

৮. নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জেলা প্রশাসক এবং এসপিদের বদলি করানোর ব্যাপারে নির্বাচনকালীন সরকার কোনো রকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না। এই বদলির কাজ পুরোটাই করবে নির্বাচন কমিশন।

৯. নির্বাচনকালীন সময় নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু কারার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সমস্ত বিষয় তদারকি করবে নির্বাচন কমিশন এবং শুধু নির্বাচন কমিশনের অনুরোধক্রমেই সরকার তাদেরকে সহায়তা প্রদান করবে।

১০. এই সময়ে যেসব নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, সরকারি দলের মতো এই নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোও একই সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করবে।

১১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সেনাবাহিনী মোতায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এখানে সরকার কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে না।

১২. প্রত্যেকটা দলের প্রধানরা বেতার - টেলিভিশনে ভাষণের ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এই কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনে যেন একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়, সব দলের সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়। আর নির্বাচন কমিশনই নির্বাচনকে পরিচালনা করবে, অন্যান্য দলগুলো শুধু নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত হবে নির্বাচনকালীন সরকারের ১২ দফা কর্মপরিকল্পনায়।


বাংলা ইনসাইডার/বিপি/জেডএ