ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মনোনয়ন বঞ্চিতদের জন্য অনেক উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৭:৫৯ পিএম
মনোনয়ন বঞ্চিতদের জন্য অনেক উপহার

আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল শনিবার। সভা শেষে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কোনো যোগ্য প্রার্থীকে কৌশলগত কারণে মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব না হলে কী করা হবে সে বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অন্তত ২০০ আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১৫০টির মতো আসনে একাধিক প্রার্থীই আওয়ামী লীগের টিকেটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য। এই নেতারা দলের প্রতি বিশ্বস্ত, দলের দুর্দিনের কাণ্ডারি। কিন্তু এক আসনে দুজনকে মনোনয়ন দেওয়া তো অসম্ভব। তাই আওয়ামী লীগ একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে যে, যারা আসন্ন নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন না তাঁরা যদি দলের নির্দেশ মেনে নেন, তাহলে তাদের জন্য অনেকগুলো পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হবে।

মনোনয়ন বঞ্চিত কেউ দলের বিরোধিতা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ অটল। কিন্তু যারা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে, মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে তাঁদের অনেকভাবে পুরস্কৃত করা হবে। এই পুরস্কারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁকে পদ প্রদান। অথবা উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে বা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হবে। এছাড়া প্রায় সাড়ে ছয় হাজার সরকারি পদ আছে, রাজনৈতিক বিবেচনায় যে পদগুলোতে নিয়োগ দেওয়া যায়। এই পদগুলোর মধ্যে আছে বিভিন্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান বা পরিচালক, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা চেয়ারম্যানের পদ কিংবা বিভিন্ন কমিটি বা কমিশনের প্রধান, চেয়ারম্যান প্রভৃতি পদ। অর্থ্যাৎ দলের প্রতি বিশ্বস্ততার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই মনোয়নবঞ্চিতদের জন্য থাকছে পুরস্কারের ব্যবস্থা। রাজনৈতিক মনোনয়ন বঞ্চিতদের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ জেলা কমিটিতে থাকার সুবর্ণ সুযোগ।

মূলত জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় কোন্দল রোধে গাজীপুর মডেল অনুসরণ করার চিন্তাভাবনা করছে আওয়ামী লীগ। কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছিল মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন। আজমত উল্লাহকে বলা হলো, জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে কাজ করলে তাঁর যোগ্যতা ও আত্মত্যাগের অবশ্যই মূল্যায়ন হবে। ফলে আজমত উল্লাহ্ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করেন আর বিপুল ভোটে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী। পরবর্তীতে দলের জন্য এই আত্মত্যাগের পুরস্কার হিসেবে আজমত উল্লাহ খানকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মনোনীত করা হয় এবং জাহাঙ্গীর আলম ও আজমত উল্লাহ্‌র কারণে গাজীপুরে আওয়ামী লীগের মধ্যে যে দলীয় কোন্দল ছিল তা মিটে যায়।

এবার একই থিওরি প্রয়োগ করা হবে জাতীয় নির্বাচনেও। কৌশলগত কারণে যারা মনোনয়ন পাবে না কিন্তু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং ভালোই জনপ্রিয়, তাঁদের ঢাকায় তলব করা হবে এবং দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে তাঁদের সঙ্গে কথা বলবেনে। প্রধানমন্ত্রী তাঁদের বলবেন, তাঁরা যদি নির্বাচনে সহযোগিতা করেন এবং আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য কাজ করেন তাহলে নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসতে পারলে তাঁর জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচনে জিতে আবার ক্ষমতায় আসলে দল এবং সরকার আলাদা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে যারা দলের কেন্দ্রীয় কমিটি বা জেলা কমিটিতে থাকবেন তারা এমপি এবং মন্ত্রিত্বের মধ্যে থাকবেন না। ফলে সরকারের মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ মন্ত্রী এবং এমপিদেরকেও জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে পারবে। এই পদ্ধতি প্রয়োগ হলে আওয়ামী লীগের সব পরীক্ষিত রাজনীতিবিদই দলে কোনো না কোনো পদ পাবেন বলে আশা করা যায়।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ