ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কী নিয়ে ফিরলেন ফখরুল?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ১১:১৩ এএম
কী নিয়ে ফিরলেন ফখরুল?

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে পাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর থেকেই নানা গণমাধ্যমে নানা রকম খবর আসছিল মির্জা ফখরুল ও তাঁর সফর ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন সফর শেষে লন্ডনেও যান মির্জা ফখরুল। লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গেও বৈঠক হয় মির্জা ফখরুলের। বিএনপির মধ্যেই প্রশ্ন দুই দেশ সফর করে কী নিয়ে ফিরলেন বিএনপি মহাসচিব?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তারেক জিয়ার উদ্যোগেই তাঁর নিয়োগ করা লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে জাতিসংঘে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পায় বিএনপি। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গেও কথা বলার সুযোগ আছে বলে জানা যায়। এরপরই গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়েন মির্জা ফখরুল। বিএনপি মহাসচিবের নিউইয়র্ক মিশনের লক্ষ্য ছিল একটাই ২০১৪ সালের মতো এবারও যেন জাতিসংঘ বাংলাদেশের নির্বাচন তদারকিতে আসে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করার পরিস্থিতি তাঁদের নেই। একই সঙ্গে আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব। পরে জাতিসংঘ মহাসচিবের সাক্ষাৎ পেতেও ব্যর্থ হন মির্জা ফখরুল। নিউইয়র্কে ব্যর্থ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল শুক্রবারই নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন যান।

স্থানীয় সময় শুক্রবার ওয়াশিংটনে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিষয়ক মার্কিন আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে একটি বৈঠকে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন বিএনপি মহাসচিব। পরে কংগ্রেসম্যানদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ। অবশ্য ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া বিষয়ক একজন ডেস্ক কর্মকর্তার সাক্ষাৎ পান বিএনপি মহাসচিব। ওই কর্মকর্তার কাছে বাংলাদেশের সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনসহ বিএনপির বিভিন্ন দাবি নিয়ে কিছু কাগজপত্র জমা দেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির পক্ষ বাংলাদেশের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সর্বোপরি নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি জানানো হয়। তবে এসব দাবির কোনোটিই তেমন গুরুত্ব পায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে। উপরন্তু মার্কিন সরকার ও পররাষ্ট্র দপ্তর বিএনপির নেতৃত্বে তারেক জিয়ার ব্যাপারে নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর  প্রথম ফ্লাইটেই লন্ডনের পথ ধরেন মির্জা ফখরুল। শনিবার রাতে লন্ডনে পৌঁছে সেখানে থাকা পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়ার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক করেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় নির্বাচন পর্যন্ত তাঁকে দলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান। লন্ডনের সূত্রগুলো বলছে, মির্জা ফখরুলের অনুরোধ মানতে রাজি হয়নি তারেক জিয়া। অন্তত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার রায়ের আগ পর্যন্ত তারেক জিয়া কিছুতেই দল থেকে সরে দাঁড়াবেন না।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে মির্জা ফখরুলের পাঁচদিনের সফরকে ব্যর্থই বলছেন বিশ্লেষকরা। কারণ জাতিসংঘের নিজেদের প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া না পেয়ে ওয়াশিংটনে গিয়ে উল্টো সমালোচনা পেয়েছেন মির্জা ফখরুল। আর লন্ডনে গিয়ে মার্কিন শর্তের বাস্তবায়নের ব্যর্থ বিএনপি মহাসচিব। দুই মহাদেশ ঘুরে আসা মির্জা ফখরুল দেশে ফিরেছেন শূন্য হাতেই।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ