ঢাকা, সোমবার, ১৪ জুন ২০২১, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে কারণে সংসদ রেখে নির্বাচন চায় আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০৭:৫৯ পিএম
যে কারণে সংসদ রেখে নির্বাচন চায় আ. লীগ

কোনো অগণতান্ত্রিক বা অনির্বাচিত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন ক্ষমতা দখল করতে না পারে সেজন্য সংসদ রেখে নির্বাচন চায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ স্থানীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার জন্য নয় বরং অসাংবিধানিক শক্তির উত্থান ঠেকাতেই সংসদ রেখে নির্বাচনের ব্যবস্থা সংবিধানে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, সংসদ রেখে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগকেও অনেক সমস্যায় পড়তে হবে। তারপরও গণতন্ত্রের স্বার্থে এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ কি ধরনের সমস্যা জানতে চাওয়া হলে, ঐ নেতা বলেন, ‘এবার নির্বাচনে বহু এমপিই মনোনয়ন পাবেন না। নতুন যিনি প্রার্থী হবেন তাঁকে ঐ এমপি তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডিস্টার্ব করবেই।’ তিনি বলেন, ‘এছাড়াও এমপি থাকা অবস্থায় প্রার্থী হলে তিনি তাঁর এলাকার বাইরে প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। তবুও আমরা সংসদ রেখে নির্বাচন চাই।’

সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেছেন, ‘বর্তমান সংবিধানের ৭২ (৪) এবং ৭২ (৫) অনুচ্ছেদে যুদ্ধাবস্থা বা প্রয়োজন মনে করলে প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশন ডাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ জানাতে পারবেন।’ ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ বলেন, ‘শুধু সংবিধান বহাল রেখে নির্বাচন নয়, অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতা দখল বন্ধে সংবিধানের অনেকগুলো রক্ষাকবচ নেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৭ (ক) অনুচ্ছেদের মাধ্যমে অসাংবিধানিক পন্থায় ক্ষমতা দখলকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর ৭ (খ) অনুযায়ী ঐ অনুচ্ছেদকে সংশোধন অযোগ্য করা হয়েছে।’

জিয়া এবং এরশাদ অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা গ্রহণ করেই সংবিধান স্থগিত করেছিলেন। তারপর সব অবৈধ কার্যক্রম ৫ম এবং ৭ম সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে বৈধ করিয়ে নিয়েছিলেন।

২০০৭ সালে সংসদ না থাকার কারণেই, ড. ফখরুদ্দিন আহমেদের অনির্বাচিত সরকারকে ’ডকট্রিন অব নেসেসেটি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। যেটি সর্বোচ্চ আদালত আমলেও নিয়েছিল। আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের রক্ষা কবচ হলো পবিত্র সংবিধান। আগে এই সংবিধান স্থগিত করে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল হতো আমরা সেটা বন্ধ করেছি।’ তিনি কারও নাম উচ্চারণ না করে বলেন, ‘এখন কেউ যদি অবৈধ পন্থায় ক্ষমতা দখলের ষড়যন্ত্র করে তা হবে অলীক কল্পনা মাত্র।’

একাধিক সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশন সংস্কারসহ যুক্তফ্রন্টের কয়েকটি দাবির প্রতি সহনশীল। কিন্তু সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবি কোনো অবস্থাতেই মেনে নেবে না।

এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, ‘ভারতে সংসদ রেখে নির্বাচন হয়, ইংল্যান্ডেও তাই। কাজেই অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে সংসদ নির্বাচন হয়, সেভাবেই বাংলাদেশে নির্বাচন হবে।’

অবশ্য বিএনপিসহ কয়েকটি বিরোধী দলের প্রধান দাবিই হলো, ‘সংসদ ভেঙ্গে নির্বাচন দেওয়া।’ বিএনপি’র একজন প্রভাবশালী নেতা বলেছেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত হয়তো নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি থেকে সরে আসবো। কিন্তু সংসদ রেখে নির্বাচন অসম্ভব।’ এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা কোনো ভাবেই সংবিধানের বাইরে যাব না। সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টিরও সুযোগ দেব না।’


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ