ঢাকা, বুধবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৮, ২ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

অবশেষে আসছে সহায়ক সরকারের রূপরেখা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
অবশেষে আসছে সহায়ক সরকারের রূপরেখা

ঘোষণার দুই বছর পর বিএনপি সহায়ক সরকারের রূপরেখা আনুষ্ঠানিক ভাবে উপস্থাপন করতে যাচ্ছে। সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজের অন্যতম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ জানিয়েছেন, ‘রূপরেখা প্রণয়নের কাজ চূড়ান্ত প্রায়। চলতি মাসের শেষ নাগাদ পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ঘোষণা করা হবে।’এই রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ,ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, খন্দকার মাহবুব হোসেন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, আগামী ২৮ থেকে ৩১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিএনপি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করবে। ২০১৬ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পাঁচ তারকা হোটেল ওয়েস্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে, অচিরেই বিএনপি একটি সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রকাশ করবে। কিন্তু গত দুই বছরে বিএনপি ঐ রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেনি। অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ জানিয়েছেন, ‘কৌশলগত কারণেই বিএনপি এই রূপরেখা আগে ঘোষণা করেনি। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল সংক্রান্ত বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের আলোকেই সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। ঐ রায়ে বিচারপতি হক, পরবর্তী দুই সংসদ নির্বাচনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা রাখার পক্ষে মত দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিচারপতি খায়রুল ঐ তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কোনো অবসর প্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিকে না রাখারও পরামর্শ দিয়েছিলেন। যদিও আপিল বিভাগ থেকে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে ঐ কথাগুলো নেই। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ দাবি করছেন যে, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ এজলাসে যেটা ঘোষণা করেছেন সেটাই আদেশ।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাবনা আসলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরই অনুরূপ। এই রূপরেখার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো এরকম:

১. প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে সমাজের পরিচিত এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে রাষ্ট্রপতি একটি সার্চ কমিটি গঠন করবেন। এই সার্চ কমিটির কাজ হবে, একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা। যিনি হবেন সহায়ক সরকারের প্রধান।

২. সার্চ কমিটি নিবন্ধিত/অনিবন্ধিত নির্বাচনে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে তিন থেকে পাঁচজন নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম সহায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রস্তাব করবেন।

৩. রাষ্ট্রপতি এই তালিকা থেকে যেকোনো একজন ব্যক্তিকে সহায়ক সরকার প্রধান হিসেবে ঘোষণা করবেন।

৪. সহায়ক সরকার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো থেকে সহায়ক সরকারের উপদেষ্টা করা যায় এমন ব্যক্তিবর্গের তালিকা নেবেন। ঐ তালিকা থেকে সরকার ও বিরোধী দল থেকে সমানুপাতিক হারে মোট ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ দেবেন সহায়ক সরকার প্রধান।

৫. সহায়ক সরকার প্রধান এবং তাঁর উপদেষ্টারা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারবেন না। এমন ব্যক্তিরাই উপদেষ্টা হবেন যাঁরা, কোনো নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি অথবা কোন দলের পক্ষাবলম্বন করে এমন কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠীর সদস্যও নন।

৬. সহায়ক সরকারের প্রধান কাজ হবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করা। ঐ সরকার কোনো নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।

৭. সহায়ক সরকারের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। ৯০ দিন পর ঐ সরকার আপনা আপনি বিলুপ্ত ঘোষিত হবে।

বিএনপির একাধিক নেতা বলছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবার জন্য যে পাঁচ শর্ত দিয়েছে সহায়ক সরকার তার একটি শর্ত মাত্র। এটি ছাড়াও বিএনপি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে যাবার জন্য আরও ৪ টি শর্ত হলো:

   ১. বেগম খালেদা জিয়া সহ বিএনপির আটক নেতা কর্মীদের মুক্তি।

   ২. বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভেঙ্গে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন।

   ৩. নির্বাচনে সেনা মোতায়েন এবং

   ৪. ইভিএম বাতিল।

বিএনপি প্রস্তাবিত সহায়ক সরকার বাস্তবায়ন করতে হলে, সংবিধান সংশোধন করার প্রয়োজন হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান সংবিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘অক্টোবরে এই সংসদের শেষ অধিবেশন বসছে। ঐ অধিবেশনে আমরা ঐ সংশোধনী পাশ করাতে সরকারকে বাধ্য করাবো।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ