ঢাকা, বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০, ২১ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন অসন্তোষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সোমবার, ১০:৪৬ এএম
ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন অসন্তোষ

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বানে গত শনিবার মহানগর নাট্যমঞ্চে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাটের ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে খেলাফত মজলিসসহ ইসলামী ঐক্যজোট, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মতো উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল অংশ নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক সংগঠনের তিনটি তালিকা সংরক্ষণ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে সবুজ তালিকায় থাকে গণতন্ত্র চর্চাকারী দলগুলো। হলুদ তালিকায় থাকে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসে জড়িত থাকতে পারে এমন সন্দেহভাজন দলগুলো। আর লাল তালিকাভুক্ত হচ্ছে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের অভিযোগে নিষিদ্ধ সব দল। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাল তালিকায় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নিষিদ্ধ ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ফ্রিডম পার্টি।

যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য করেছে, হলুদ তালিকাভুক্ত অনেকগুলো রাজনৈতিক দল মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত শনিবারের সমাবেশে যোগ দিয়েছে যাদের মধ্যে খেলাফত মজলিস ছিল অন্যতম।

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক এই দলগুলোর অন্তর্ভুক্তি নিয়েই অসন্তুষ্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কারণ ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে তাদের আগেই কথা ছিল, দেশে যে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান তারা কামনা করে তাকে সেক্যুলার অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ধারার অনুসারী হতে হবে। এ কারণেই তারা শর্ত দিয়েছিল, নতুন জোটে থাকতে পারবে না জামাত। কিন্তু জাতীয় ঐক্যের নাগরিক সমাবেশে অন্যান্য উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামাতের কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জামাতের পাশাপাশি মৌলবাদী চিন্তা-চেতনার দলগুলোর উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র যখন জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণা করে, নাগরিক সমাবেশে উপস্থিত অন্তত দুটো দল তখন মার্কিন পতাকা পোড়ানোর সঙ্গে জড়িত ছিল বলে চিহ্নিত করেছে দেশটি।

এসব কারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া বার্নিকাট জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে অসন্তোষ জানিয়েছে এবং এই জোটের মধ্যে যেন কোনো উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক, মৌলবাদী রাজনৈতিক সংগঠন না থাকে সে ব্যাপারে ড. কামাল হোসেনকে পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।

উগ্রপন্থী ধর্মভিত্তিক দলগুলোর ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিতে এই জোটের ব্যাপারে নতুন করে আরেকটি জটিলতা সৃষ্টি হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ