ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

শেখ হাসিনার জীবনের বিশ্বাসঘাতকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০২:০৩ পিএম
শেখ হাসিনার জীবনের বিশ্বাসঘাতকরা

উন্নত বাংলাদেশ গড়ার কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ ৭১ বছর পূর্ণ করে ৭২ এ পা দিলেন। এই সুদীর্ঘ জীবনে তিনি অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীর দেখা পেয়েছেন। আবার দেখা পেয়েছেন শুভাকাঙ্ক্ষী সেজে থাকা অনেক বিশ্বাসঘাতকেরও। এই বিশ্বাসঘাতকেরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে পেছন থেকে টেনে ধরার চেষ্টা করেছেন বারবার। কিন্তু শেখ হাসিনা সব বাধা ডিঙ্গিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে উন্নতির পথে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর ১৯৮১ সালে ভারত থেকে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বভার গ্রহণ করেন। সে সময় মহিউদ্দিন আহমদ ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সচল ছিল। কিছুদিন এলোমোলো ভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ কার্যক্রম চলার পর নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠল কোন সংগঠন থাকবে। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বললেন, শুধু তাঁর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগই থাকবে। এই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বাকশাল গঠন করেন এবং ১৯৯১ সাল পর্যন্ত বাকশালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর যখন আওয়ামী লীগের খারাপ সময় যাচ্ছিল তখন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার পাশে না থেকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আরেকটি দল গঠন করাকে আব্দুর রাজ্জাকের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই অভিহিত করা চলে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ড. কামাল হোসেনকে প্রথমে আইনমন্ত্রী ও পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিযুক্ত করেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় রহস্যময় ভাবে দেশ ত্যাগ করে চলে যান ড. কামাল। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সঙ্গেও বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন তিনি। স্বৈরশাসকের অধীনে ১৯৮৬ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করেছিলেন ড. কামালের প্ররোচনায়। এরপর ৯১’র নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। এ ঘটনায় ড. কামাল হোসেন মনে করলেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের আর ভবিষ্যত নেই। তাই তিনি দলের দুর্দিনে দল ত্যাগ করে গণফোরাম গঠন করেন। বর্তমানে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আওয়ামী লীগ বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করেছেন এবং তিনি আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় সমালোচকদের একজন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের ইতিহাসে ড. কামালের মতো এত বড় বিশ্বাসঘাতক আর একটিও পায়নি আওয়ামী লীগ।

বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় বারের মতো ক্ষমতায় আসে ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে। ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে মনোনীত করে। কিন্তু প্রথম থেকেই যেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কাজ করতে মাঠে নামেন সিনহা। যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেমের আপিল শুনানিকালে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা প্রসিকিউশানের কঠোর সমালোচনা করেন, তিরস্কার করেন অ্যাটর্নি জেনারেলকে। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ডের যে রায় দিয়েছিল, সেই রায় ফাঁস হয়ে যায় সিনহার আমলেই। এমনকি ২০১৭ সালে এস কে সিনহার মাধ্যমে সরকার পতনের জন্য জুডিশিয়াল ক্যু করার ষড়যন্ত্র করা হয়। বর্তমানে দেশান্তরী সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সরকারের তীব্র সমালোচনা করে ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম: রুল অব ল, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি’ শিরোনামে একটি বই লিখেছেন যার ফলে বহির্বিশ্বে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনের অন্যতম বড় বিশ্বাসঘাতক যে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা সে কথা বলাই বাহুল্য।

১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর শ্রদ্ধা দেখিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তৎকালীন প্রধান বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদকে রাষ্ট্রপতি বানিয়েছিলেন। একথা সত্যি যে, শাহাবুদ্দিন আহমেদের সৎ, নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে খ্যাতি আছে। কিন্তু তাঁর মতো একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগের নীতি-আদর্শের সঙ্গ খাপ খায়নি। আওয়ামী লীগের অনেকের কাছে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন এখন একজন বিশ্বাসঘাতক হিসেবেই পরিচিত। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে শাহাবুদ্দিন আহমেদকে নবগঠিত জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। আওয়ামী লীগের হাত ধরে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হয়ে পরবর্তীতে আওয়ামী বিরোধীদের প্রিয়পাত্রে পরিণত হওয়ার বিষয়টির দিকে লক্ষ্য করলেই শাহাবুদ্দিন আহমেদের আওয়ামী লীগ সম্পর্কিত মনোভাব পরিষ্কার হয়ে যায়।

ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে যখন সাংসদদের হাতে প্রধান বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা দেওয়া হয় তখন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এর বিরোধিতা করেন। ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম বলেন, কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হয়, তবে জুডিশিয়ারির তদন্ত হবে এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দেবে। তাই ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম এবং ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদকেও শেখ হাসিনার জীবনের আরও দুজন বিশ্বাসঘাতক বললে কোনো ভুল হয় না।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজের রাজনৈতিক জীবনে অনেক বিশ্বাসঘাতকের সম্মুখীন হয়েছেন। কিন্তু কোনো কিছুই তাঁর অটল মনোবলে ফাঁটল সৃষ্টি করতে পারেনি। সকল ষড়যন্ত্র পায়ে ঠেলে বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ