ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আ. লীগ কি বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
আ. লীগ কি বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে চায়?

বিএনপির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের কৌশল কী? রাজনৈতিক অঙ্গনে এ এক মূল্যবান প্রশ্ন। যদিও প্রধানমন্ত্রী নিজেও একাধিকবার বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে আনার কোনো উদ্যোগ আওয়ামী লীগ নেবে না।’ তিনি এটাও স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘নির্বাচনে আনতে কাউকে অনুরোধ করা হবে না।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপ হবে না।’ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এই মন্তব্যের ব্যাপারে বিএনপিও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিএনপি বলেছে, আওয়ামী লীগ চায় না বিএনপি আগামী নির্বাচনে আসুক। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ আবার ২০১৪ সালের মতো একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়। এজন্য তারা বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি নয়।’ কিন্তু আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে, আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই ২০১৪ সালের মতো নির্বাচন চায় না। বরং বিএনপিকে নিয়েই নির্বাচন করতে চায়।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে একাধিক কূটনীতিক, সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানকে বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে এবং সব দল তাতে অংশগ্রহণ করবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, বিএনপিকে নিয়ে আওয়ামী লীগ একগুচ্ছ পরিকল্পনা করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছে, গত একমাসে বিএনপিকে দু’টি জনসভা করতে দেওয়া হলো। অথচ, এর আগে পাঁচ বছরে তারা ঢাকায় মাত্র একটি জনসভা করার অনুমতি পেয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে এবং তারা যেন নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়, সেজন্যই এখন বিএনপিকে কর্মসূচি পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। একদিকে বিএনপিকে কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপির তৃণমূল এবং মধ্যস্তরের নেতাদের ধরপাকড়ের হার বেড়েছে। গত একমাসে হাবিব-উন-নবী খান সোহেলসহ বেশ কিছু তরুণ বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এরা সবাই কট্টরপন্থী। নির্বাচন বিরোধী শক্তিকে দুর্বল করা এবং আন্দোলনের শক্তি দমাতেই এই নতুন ধরপাকড় বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। একটু অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো এখন স্থবির হয়ে আছে। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মামলার অগ্রগতি নেই। আবার বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের দৃশ্যমান তৎপরতা রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া যেন নির্বাচন থেকে দূরে থাকেন, সে ব্যাপারে আইনগত ভাবে যা যা করা দরকার সবই সরকার করছে। অন্যদিকে বর্তমান বিএনপি নেতারা যেন নির্বাচনের আগে অযোগ্য না হন সে চেষ্টাও লক্ষণীয়। আওয়ামী লীগ বেগম জিয়ার ব্যাপারে যতটা আক্রমণাত্মক, অন্যান্য নেতাদের ব্যাপারে ততটাই উদার।

বিএনপির ব্যাপারে আওয়ামী লীগের পরিকল্পনাগুলো বিশ্লেষণ করলে, এরকম ধারণা করা যায় যে, আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নির্বাচনমুখী করতে চাইছে। কিন্তু ঐ নির্বাচনে যেন বেগম জিয়ার কোনো ভূমিকা না থাকে, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত হতে চাইছে। 

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ