ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

জামাতের না

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৩ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০১:০২ পিএম
জামাতের না

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষিত হতে যাচ্ছে আগামী ১০ অক্টোবর। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়াসহ একাধিক নেতার এই রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হবার আশঙ্কা থাকায় রায়ের আগেই ঢাকায় ৯ ও ১০ অক্টোবর একটি বড় ধরনের শো ডাউন করতে চাইছে দলটি। কিন্তু রাজপথে শো ডাউন কখনোই বিএনপির একার সামর্থ্যে কুলিয়ে ওঠে না। সেজন্য তাদের জামাতের সাহায্য ও সমর্থনের প্রয়োজন হয়। তাই শো ডাউনের পরিকল্পনা সফল করতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে জামাতের সঙ্গে বৈঠক করেছে বিএনপির নেতারা। বৈঠকে গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ের আগে ঢাকা অচল করতে জামাতের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপির এই প্রস্তাবে আগ্রহ দেখায়নি জামাত। শো ডাউনে সাহায্য করার প্রস্তাবে বিএনপিকে না করে দিয়েছে তারা।

এই বিষয়ে জামাতের বক্তব্য হচ্ছে, যখন একাত্তরের মানবতাবিরোধীদের বিচার হয় তখন বিএনপিকে পাশে পায়নি দলটি। জামাতের শীর্ষ নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মতিউর রহমান নিজামী প্রমুখের বিচারের সময় বিএনপি কোনো বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। এমনকি জামাতের ডাকা হরতালেও তখন সমর্থন জানায়নি বিএনপি। তাই এখন তারেক জিয়ার বিচারের সময় বিএনপিকে সহায়তা করতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। জামাতের বিপদের সময় বিএনপি তাদের সাহায্য করেনি বলেই এখন দলটি বিএনপির বিপদে সাহায্য করতে রাজি নয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বিএনপি-জামাতের পুরনো হিসাব-নিকাশ বিএনপিকে সহায়তায় জামাতের অনিচ্ছার পেছনে একটি বড় কারণ হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা জামাতের ‘না’ এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সাম্প্রতিক সময়ে জামাত নিয়ে বিএনপির গৃহীত অবস্থানকে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছুদিন আগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন করেছে গণফোরাম, যুক্তফ্রণ্টসহ বেশ কয়েকটি দল। সেই ঐক্য প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ার জন্য বিএনপিকে আমন্ত্রণ জানানো হয় কিন্তু তাদের সামনে শর্ত রাখা হয় দলটি যেন জামাতকে ত্যাগ করে। এই শর্তানুসারে গত রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে রাখা হয়নি জামাতকে। এর আগে মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আহ্বানে অনুষ্ঠিত নাগরিক সমাবেশও জামাতকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এসব ঘটনায় জামাত বুঝতে পেরেছে, সুবিধা আদায়ের জন্য তাদেরকে যে কোনো সময় ত্যাগ করতে পারে বিএনপি। তাই বিএনপিকে সাহায্য করার প্রস্তাবে না করে দিয়েছে জামাত।

কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি আয়োজিত পল্টনের জনসভা, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জনসভায় বিএনপির অন্যান্য জনসভার তুলনায় কম লোক হয়েছে। জামাতকে বাদ দিয়ে কর্মসূচি দেওয়ায় বিএনপির কর্মসূচিগুলোতে লোকের উপস্থিতি কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিনের মিত্র জামাতের নেতাকর্মীরা বিএনপির অন্যতম শক্তি হিসেবে বিবেচিত। এমন অবস্থায় জামাতের সহযোগিতা ছাড়া আগামী ৯ ও ১০ অক্টোবর বিএনপির ঢাকা অচলের যে পরিকল্পনা রয়েছে তা কতটুকু সফল হবে এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ