ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৪ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভিন্ন মতাবলম্বীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৬:০০ পিএম
নির্বাচন নিয়ে বিএনপির ভিন্ন মতাবলম্বীরা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেতে বিএনপি সাত দফা শর্ত ঘোষণা করেছে। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, বেগম জিয়ার মুক্তি ছাড়া তাঁরা নির্বাচনে যাবেন না। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সরকার বিএনপির নির্বাচনে যাবার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।’ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির এত সব শঙ্কার পরও দলটির একটি বড় অংশ ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে’ নির্বাচনে যাবার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। নির্বাচনপন্থীরা একটি নেটওয়ার্কও তৈরি করেছে। শতাধিক সাবেক এমপি, প্রয়োজনে আলাদা হয়ে গেলেও নির্বাচনে যাবার ব্যাপারে আলাপ আলোচনা শুরু করেছে। নির্বাচনপন্থীদের অন্তত তিনটি বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে। ঐ সব বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষায় নির্বাচনের বিকল্প নেই। বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে যে, দলের শীর্ষ নেতারা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেবে। ২০১৪’র মতো ভুল করবে না।’এই সব বৈঠকে সাবেক সংসদ সদস্যরা এরকম অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ‘বিএনপির শীর্ষ নেতারা যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না যাওয়ার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেয়, সেক্ষেত্রে এবার তাঁরা নির্বাচনে যাবে। প্রয়োজনে তলবী সভা করে, ‘তাঁদের যুক্তি তুলে ধরবে।’ এর ফলে দল ভাঙ্গবে কিনা জানতে চাওয়া হলে, বিএনপির একজন নির্বাচনপন্থী বলেন, ‘দল ভাঙ্গতে নয়, বরং দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমাদের কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ ঐ নেতা বলেন, ‘সরকার বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে। তাই বিএনপির উচিত হবে যেকোনো মূল্যে নির্বাচনে যাওয়া।’ তাঁর মতে, ‘এবার নির্বাচনে না গেলে বিএনপি নিবন্ধন হারাবে। তাঁর প্রতীক হারাবে। দল হিসেবে তার অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে আমরা এটা হতে দিতে পারি না।’

বিএনপির অনেক নেতাই নির্বাচনপন্থীদের আলাদা বৈঠকের খবর জানেন। বিএনপির নেতারা কোনো রাখঢাক না রেখেই তাদের ‘সরকারের এজেন্ট’ বলছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, ’দল ভাঙ্গতে সরকার এদের টোপ দিয়েছে।’ জানা গেছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জেনারেল (অব.) মাহাবুবুর রহমান, বিএনপি নেতা মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বিএনপির নির্বাচনী নেটওয়ার্কের উদ্যোক্তা। তাঁরা নিয়মিত বিভিন্ন বাসায় বসছেন। এই গ্রুপটি শতাধিক সাবেক এমপিকে নির্বাচনের পক্ষে আনতে পেরেছেন বলে দাবি করেছেন। তাঁরা দাবি করছেন, ৩০০ আসনেই বিএনপির জনপ্রিয় প্রার্থীরা নির্বাচনে যাবার সংকেতের অপেক্ষায় আছেন। নির্বাচনের লক্ষ্যে তাঁরা কাজও করছেন। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে, এলাকায় তাঁদের এবং কর্মীদের অবস্থা আরও নাজুক হয়ে পড়বে। তবে, এই নেতারা বলছেন, এখনই দল ভাঙ্গার বিষয়টি তাঁরা ভাবছেন না। দল শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তই নেবে বলে তাঁদের বিশ্বাস। তবে, তাঁদের এই পৃথক অবস্থান বিএনপি ভাঙ্গার ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।  

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ