ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কে শয়তান?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
কে শয়তান?

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ‘শয়তান তত্ত্ব’ নিয়ে রাজনীতিতে এখন তোলপাড় চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন, শয়তান কে? বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বরের জনসভায় বলেছেন, ‘প্রয়োজনে বিএনপি শয়তানের সঙ্গে ঐক্য করবে।’ তাঁর এই বক্তব্যের পর রাজনীতিতে নানা মুখরোচক আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে মুহূর্তে যুক্তফ্রন্ট এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বিএনপির ঐক্য প্রচেষ্টা চলছে, সে মুহূর্তে গয়েশ্বরের এই মন্তব্যে বিএনপি নেতারাই বিব্রত। অবশ্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘একটা এক্সট্রিম অবস্থা বোঝাতে তিনি এরকম মন্তব্য করেছিলেন। কাউকে উদ্দেশ্য করে তিনি এটা বলেননি।’ গয়েশ্বর এটার যে ব্যাখ্যাই দেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মহাসচিব অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী এটা ব্যক্তিগত ভাবে নিয়েছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘এরা এখনই এরকম কথা বলছে, ক্ষমতা পেলে কি করবে?’ অধ্যাপক চৌধুরী এ ব্যাপারে তাঁর ক্ষোভ বিএনপি মহাসচিবকেই টেলিফোন করে বলেছেন। যদিও মির্জা ফখরুল বলেছেন, ‘এটি তাঁকে (বি. চৌধুরীকে) উদ্দেশ্য করে বলা হয়নি।’

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ১৯৮১ সালে জিয়ার নিহত হবার পর থেকে, বিএনপির তরুণরা অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে ’বেঈমান চৌধুরী’ বলে ডাকতো। সেই তরুণদের একজন ছিলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির এই তরুণরা মনে করতো, জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পিছনে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর হাত আছে। ১৯৮৩ সালে বেগম জিয়া যখন বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। তখন যারা বেগম জিয়ার নেতৃত্বের বিরোধিতা করেছিলেন, বি. চৌধুরী ছিলেন তাঁদের অন্যতম। এ সময় ধানমণ্ডিতে তৎকালীন বিএনপি কার্যালয়ে এক কর্মী সভায় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অধ্যাপক ডা. বি. চৌধুরীকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, ‘বেঈমানী করলে, আপনার নাম হবে বেঈমান চৌধুরী।’ (সূত্র ‘দৈনিক ইত্তেফাক, ২৮ নভেম্বর ১৯৮৩)।

বিএনপিতে বি. চৌধুরী বেঈমান থেকে শয়তানে পরিণত হন ২০০২ সালের ২১ জুন। তাঁকে প্রথম শয়তান বলেন, এই গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ই। সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী, ২০০২ সালের ২১ জুন বিএনপির অনির্ধারিত সংসদীয় দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঐ বৈঠকের আগে, বেগম জিয়া সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক থেকে বেরিয়ে, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ই প্রথম ঘোষণা করেন ‘রাষ্ট্রপতির পদ থেকে আমরা শয়তানের অপসারণ চাই’ (সূত্র দৈনিক ইত্তেফাক, ২২ জুন ২০০২)। এরপর সংসদীয় দলের সভায় রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে তুলোধুনো করা হয়। অনতি বিলম্বে তাঁকে পদত্যাগেরও আহ্বান জানানো হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, ‘অবিলম্বে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ না করলে বি. চৌধুরীকে ইমপিচ করা হবে।’ ঐ বৈঠকের বার্তা অধ্যাপক চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরী তাঁর পিতাকে জানান। ডা. চৌধুরী তাৎক্ষণিক ভাবেই স্পিকারের কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠান। এরপর থেকে বিএনপিতে তাঁকে শয়তান চৌধুরী বলেই ডাকা হয়। এজন্যই গয়েশ্বর চন্দ্র রায় শয়তানের সঙ্গে ঐক্যের কথা বলেছেন বলে মনে করেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীও জানেন, বিএনপির একটি অংশ তাঁকে ’শয়তান’ ডাকে। এজন্যই তিনি খেপেছেন। আর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সব সময়ই বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিরোধী হিসেবেই পরিচিত। বিএনপিতে যাঁরা জাতীয় ঐক্যে বি. চৌধুরীকে চান না গয়েশ্বর তাঁদের অন্যতম। ঐক্য চান না জন্যই কি ঘরের ডাকে গয়েশ্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বি. চৌধুরীকে ডাকলেন?

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ