ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আটমাস পর নেতৃত্ব ফিরে পেলেন খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০৮:০০ পিএম
আটমাস পর নেতৃত্ব ফিরে পেলেন খালেদা

দীর্ঘ আটমাস পর বিএনপির নেতৃত্ব ফিরে পেলেন বেগম খালেদা জিয়া। গতকাল রোববার রাতে যুক্তফ্রন্ট এবং ঐক্য প্রক্রিয়ার সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, আমরা এখন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে কাজ করছি।’ তিনি এটাও জানান যে, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে আসার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আমাদের নির্দেশও দিচ্ছেন।’ বিএনপি মহাসচিব ঐ বৈঠকে বলেন, বিএনপিতে কোনো ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নেই, বেগম জিয়াই বিএনপির চেয়ারপারসন।’ বিএনপি মহাসচিব জানিয়েছেন, ‘আজও (রোববার) ডা. মামুনের মাধ্যমে আমি ম্যাডামের বার্তা পেয়েছি। ম্যাডাম ঐক্য এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলায় বেগম জিয়া দণ্ডিত হন। আদালতে যাওয়ার আগে বেগম জিয়া তাঁর পুত্র তারেক জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। বিএনপি নেতৃত্ব পুত্রের হাতে তুলে দিয়ে তিনি আদালতে যান, সেখান থেকে তিনি কারাগারে যান। গত আটমাসে তারেক জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। কিন্তু লন্ডনে পলাতক থাকায় দলের আসল নেতা ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারেক জিয়াকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হয়। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তারেক জিয়ার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তোলেন। ফলে প্রথমদিকে বিএনপি নেতারা তারেক জিয়ার নেতৃত্বের কথা বললেও পরবর্তীতে তারেক জিয়ার নাম উচ্চারণই বন্ধ করে দেন। 

বিএনপি যে সমস্ত কারণে বেগম জিয়াকে কারাগার থেকে হাসপাতালে আনতে চাইছিল তাঁর একটি বড় কারণ হলো, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন। বেগম জিয়া এবং বিএনপি নেতারা ইউনাইটেড বা বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন এ কারণে যে, যাতে সহজেই বেগম জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। তবে, বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, হাইকোর্ট বেগম জিয়ার চিকিৎসার যে ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন, তাতে বিএনপির সঙ্গে বেগম জিয়ার যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তাঁর আত্মীয় ডা. মামুন থাকছেন। এছাড়াও বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত ফিজিও থেরাপিস্ট থাকার সুযোগ থাকছে। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এখন যেহেতু বেগম জিয়ার নির্দেশ এবং সিদ্ধান্তে দল পরিচালিত হচ্ছে, তা বৃহত্তর ঐক্যের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কেরও অবসান হয়েছে। গত রোববার বিএনপি স্পষ্ট করেই জানায় যে, বেগম জিয়াই বৃহত্তর ঐক্যের নেতা থাকবেন। যুক্তফ্রন্ট এবং ঐক্য প্রক্রিয়া এটি মেনে নেন বলেও জানা গেছে। বিএনপির একজন তারেকপন্থী নেতা বলেছেন, তারেক জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান না থাকলেও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে থাকছেন। দলের চেয়ারপার্সনের পর তিনিই সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান। তাছাড়া ২০০১ সাল থেকে বিএনপির আসল নেতা তারেক জিয়া। তবে, বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করেন, দলের বাইরে তারেক জিয়ার ইমেজ সংকট রয়েছে। তাই আন্দোলন বা নির্বাচন দু’টোর জন্যই বেগম জিয়াকে সামনে রাখা জরুরি।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ