ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ৪ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপি নেতারাই তারেককে সরাতে চায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার, ১০:০১ পিএম
বিএনপি নেতারাই তারেককে সরাতে চায়

তারেককে দল থেকে সরাতে বিএনপি নেতারাই অনুরোধ জানাচ্ছে। বিএনপির মধ্যেই চাপ বাড়ছে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ের পর তারেক যেন দলের নেতৃত্বে না থাকে। সে ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপারে শীর্ষস্থানীয় নেতারাই চাপ দিচ্ছেন। জানা গেছে যে, বিএনপির স্থানীয় কমিটির অন্তত দুজন সদস্য এবং বিএনপির আরও গুরুত্বপূর্ণ নেতা আপাতত তারেককে নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য হচ্ছেন লে জে (অব) মাহবুবুর রহমান। গত ১০ অক্টোবর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়ের পরে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে তিনি বলেছেন, এই রায় নিয়ে যে সমলোচনা বিএনপি করছে তা ঠিক আছে। তবে যেহেতু আইনী লড়াইয়ে বিএনপি অংশগ্রহন করেছিল এবং প্রতিযোগিতা করে হেরেছে।  আপাতত তাই তারেককে বিএনপির চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরানো যুক্তিযুক্ত হবে। যুক্তি হিসেবে দলের মহাসচিবকে বলেছেন, আন্তর্জাতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যে কথাগুলো বলছি, বিচার নিরপেক্ষ হয়নি কিংবা আদালত পক্ষপাতভাবে রায় দিয়েছে। সেটা আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে না। এজন্য বিএনপির ভাবমূর্তির স্বার্থেই তারেককে এখন আপাতত নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত।

একইরকম অভিমত ব্যক্ত করেছেন স্থায়ী কমিটির আরও একজন সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। গতকাল তিনি ভারতীয় দূতাবাসের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি তার ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে কূটনৈতিকদের বলেছেন, তিনিও মনে করেন এখন তারেকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকা উচিত নয়। এর দুটি কারণ বলেছেন, একটি হলো, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়। অন্যটি হলো, দীর্ঘদিন ধরে তারেকের বিদেশে অবস্থান। তিনি মনে করেন, এই সংকটকালীন সময়ে এমন একজন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দরকার যাকে সার্বক্ষনিক পাওয়া যায়। তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অবস্থানগত কারণে তারেককে সব নেতারা সময়মতো পাচ্ছে না। মঈন খান ভারতীয় দূতাবাসের কূটনৈতিকদের বলেছেন, ‘যদিও আমি মনে করি ২১ আগস্টের রায় পুরোপুরি নিরপেক্ষ কিংবা প্রভাবমুক্ত হয়নি।’

বিএনপির আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা মেজর (অব: ) আবদুল হাফিজ। তিনিও দলের মহাসচিবের কাছে বলেছেন যে , দলের ভাবমূর্তির স্বার্থেই তারেকের আপাতত নেতৃত্ব থেকে সরে দাড়ানো উচিত। তিনি মনে করেন, এই রায় প্রভাব বিস্তার করে করা হয়েছে কিংবা পক্ষপাত দুষ্ট। এগুলো সবই ঠিক আছে। কিন্তু জনগনের কাছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দলের ভাবমূর্তি ঠিক রাখার জন্য তারেকের এই মুহূর্তে সরে যাওয়ার কোন বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, তারেকের কারণে বিএনপির ইমেজ ক্ষুন্ন হচ্ছে। বিএনপিকে জনগন গ্রহণ করতে পারছে না। তিনি এটাও মনে করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দিনকে দিন বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে এই তারেকের সন্ত্রাসী ইমেজের কারণে। সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেককে সরে যেতেই হবে। তিনি মহাসচিবকে বলেছেন, যদি তারেক নিজে থেকেই সরে যায়, তাহলে করে এটা সিস্টেমেটিক্যাল হয়। যদি তিনি সরে দাড়ানোর প্রয়োজন না মনে করেন। তাহলে তাকে এ ব্যাপারে অবশ্যই অনুরোধ করা উচিত। বিএনপির আরও কয়েকজন নেতারাও তারেকের সরে যাওয়ার ব্যাপারে একমত।

তারেককে নিয়ে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় পর্যায়ে যে অস্বস্তি ও আপত্তি সেটা কারো অজানা নয়। কিন্তু তারেককে যে বিষয়টা কেউ বলবে, তার সাহস কেউ পাচ্ছে না। তবে সম্প্রতি প্রয়াত কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান সিঁথি ঢাকায় এসেছেন। আজকালের মধ্যেই তিনি বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। বিএনপি দলের এই মনোভাব দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঁথিকে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন খালেদা জিয়া বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

সিঁথি , ড. মাহাবুব এবং শামীম ইস্কান্দার আজকালের মধ্যে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন। দেখা করার পর খালেদা জিয়ার এই বিষয়টি নিয়ে করণীয় সম্পর্কে তার মতামত জানতে চাইবে তখন যদি খালেদা জিয়া বলেন, ঠিক আছে তারেক আপাতত সরে যাবে। তখন হয়তো তারেকও এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন।

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ