ঢাকা, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: চাঁদপুর-৩ আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৫:০০ পিএম
আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: চাঁদপুর-৩ আসন

একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মধ্যকার দলীয় কোন্দল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদের একাধিক আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। এই প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই নিজেদের হয়ে এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। অন্তর্কোন্দলে জর্জরিত এমনই একটি আসন হচ্ছে চাঁদপুর-৩ আসন।

চাঁদপুর-৩ সংসদীয় আসনটি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ২৬২ তম আসন। চাঁদপুর সদর উপজেলা ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটার সংখ্যা ৪৩০২৫৭ জন। চাঁদপুর-৩ আসন থেকে গত দুইবারের নির্বাচিত এমপি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তবে এই আসনে আওয়ামী লীগের একচ্ছত্র আধিপত্য আছে বলা যাবে না। কারণ এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাই জয়লাভ করেছিল। ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আলম খান এবং ৭ম ও ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জি এম ফজলুল হক জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জিতে এই আসনে বিএনপির আধিপত্য ভঙ্গ করেন ডা. দীপু মনি। ওই নির্বাচনে ডা. দীপু মনি পান ১৩৪৮৩৬টি ভোট আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী  বিএনপির জি এম ফজলুল হক ১১৬০৬৮টি ভোট পেয়ে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়  কমিটির যুগ্ম সম্পাদক দীপু মনি এবারও চাঁদপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু একই এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন সুজিত রায় নন্দীও। সুজিত রায় নন্দী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক। কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা হওয়ায় রাজনীতিতে তাঁর প্রভাবও কম নয়। এছাড়া চাঁদপুরের ওই নির্বাচনী এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটার একটি বিরাট ফ্যাক্টর। এর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী সুজিত যদি দীপু মনির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায় তাতে এলাকায় আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে স্পষ্টতই বিভক্তি তৈরি হবে। এমন অবস্থায় এই দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী নিজেদের স্বপক্ষে এবং একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। কেন্দ্রীয় কমিটির এই দুই সদস্যের দ্বন্দ্বে ইতিমধ্যেই বিভক্তি সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগে। অথচ নির্বাচনের আগে বাকি আছে তিন মাসেরও কম সময়। এত অল্প সময়ের মধ্যে এই বিরোধ কীভাবে মিটবে তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ    

বিষয়: আওয়ামীলীগ