ঢাকা, সোমবার, ২১ জুন ২০২১, ৭ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মইনুল বচন ২: মইনুলের টেলিভিশনের জন্য ঘুষ চেয়েছিল বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:২৯ এএম
মইনুল বচন ২: মইনুলের টেলিভিশনের জন্য ঘুষ চেয়েছিল বিএনপি

[ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মহা সমারোহে বিএনপির সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু এই বিএনপি এবং জিয়াউর রহমান সম্পর্কে তাঁর যে ধারণা বা মনোভাব তারই গ্রন্থ ‘আমার জীবন আমার স্বাধীনতা’ থেকেই প্রতীয়মান হয়। তার সেই গ্রন্থের বিভিন্ন সময়ের বক্তব্যগুলো যদি সত্যি হয়, তাহলে তাঁর আজকের এই অবস্থান হবে রাজনীতিতে সবচেয়ে বড় ডিগবাজিগুলোর মধ্যে একটা।]

মইনুল হোসেন রচিত `আমার জীবন আমার স্বাধীনতা’ বইয়ের ১৮৭ থেকে ১৮৮ পৃষ্ঠায় তাঁরই কিছু কথা এখানে তুলে ধরা হলো:

ছোট ছেলে পাপ্পুর ভবিষ্যতের কথা ভেবে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কাছে গিয়ে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন পাওয়ার অনুরোধ জানাই। যাতে তিনি ভুলে না যান সেজন্য লিখিতভাবে আমি অনুরোধ করি। পাপ্পুকে নিয়ে আমার বিশেষ চিন্তার কথাও তাঁকে বুঝিয়ে বললাম। আমার টাকা নেই। কিন্তু আমাদের এক আত্মীয় ব্যাংকারের ছেলের সঙ্গে মিলে পাপ্পু টিভি চ্যানেল চালানোর ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। কিন্তু আমার অনুরোধ রাখা হলো না। আমিও দ্বিতীয়বার স্মরণ করিয়ে দেইনি। অথচ কাছের লোক বিধায় একজনকেই দু’টি চ্যানেল দেওয়া হয়েছে এমন দৃষ্টান্তও রয়েছে।

এ ঘটনার কথা বলছি এ কারণে যে, বেগম খালেদা জিয়াকে কেউ কেউ বুঝাবার চেষ্টা করেছেন ব্যারিস্টার সাহেব টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি পায়নি বলে তাঁর ক্ষতি করতে চেয়েছেন। তাদের এধরনের বক্তব্যে আমি অবাক হইনি। আমার টাকা নেই। দলীয় লোকদের তো আমি খুশি করতে পারছি না। কৃতজ্ঞতাবোধের প্রশ্ন তো কোনো প্রশ্নই নয়।

আমাদের বর্তমান রাজনীতিবিদরা বুঝবেন না যে, ব্যক্তিস্বার্থ আর রাজনীতি এক নয়। আমি আমার ছেলের কাছে লজ্জা পেয়েছি এজন্য যে, বিএনপি’র সঙ্গে বহুদিনের সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও আমাকে কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়। শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, আমি তো মনে করি বিএনপিকে বিরোধীদলের ভূমিকায় প্রতিষ্ঠা করতে আমি তাদের কাজেও এসেছি।

কিন্তু টেলিভিশনের চ্যানেল না পাওয়ার জন্য বিএনপি`র পা রাজনৈতিক বিরোধ থাকার প্রশ্ন উঠে না। আমি দেশের স্বার্থে জনগণের পক্ষে মতামত প্রকাশ করে থাকি। ব্যক্তিস্বার্থের কথা মনে রেখে রাজনৈতিক মতামত রাখি না। এ প্রশ্ন নিশ্চয় মনে আসতে পারে যে, একজন নাগরিক হিসেবে আয় তার ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত করা হবে কেন? আমার ছেলেই বা কী ভাববে যে, আমি প্রভাবশালী কেহ না হবার জন্য সে অসহায়। ন্যায়-নীতির ভিত্তিতে সে কিছু পাবে না।


আমি রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলে থাকি। আওয়ামী লীগের রাজনীতি এবং বিএনপির রাজনীতিতে আমি কোন পার্থক্য দেখি না এমন মতামতই দিয়ে থাকি ।

আমার স্ত্রী সাজু ছেলে পাপ্পুর জন্য শেষ পর্যন্ত একটি ফিলিং স্টেশনের সুযোগ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ করেন। কোনো সরকারি পদ-পদবীর জন্য নয়। পাপ্পু তার সাথে দেখা করলে বলা হলো দলের ফান্ডে টাকা দিতে হবে। অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা যেন দলীয় বাণিজ্যের বিষয়। পরে মন্ত্রী সাহেব এমন একখণ্ড জমি দিলেন যা সম্পূর্ণ পানির নিচে। পাপ্পুকে ফিলিং স্টেশনের আশা বাদ দিতে হলো।

রাজনীতির এই নির্লজ্জ ব্যবসায়ী দৃষ্টিভঙ্গি আমি বদলাতে চেয়েছি। জনগণের একজন হিসেবে আমার ছেলের একটি টেলিভিশন চ্যানেল বা ফিলিং স্টেশন ব্যবসার সুযোগ পেতে বাধা কী ছিল, এ প্রশ্ন আমি ন্যায়তোই করতে পারতাম – আমি তাও করিনি। দেশ ক্ষমতাসীনদের, সব সুযোগ-সুবিধাও তাদের জন্য। জনসাধারণ যে কীভাবে নিজেদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তা অধিকতর পরিষ্কার করার জন্য আমার ছোট ছেলের বিষয়টি উল্লেখ করলাম।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ