ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেমন ছিল দশম জাতীয় সংসদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার, ১০:১৪ এএম
কেমন ছিল দশম জাতীয় সংসদ?

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করায় ওই সংসদের সরকারি দল হিসেবে আবির্ভূত হয় আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আবির্ভূত হয়।

দশম জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন বসতে যাচ্ছে আজ রোববার থেকে। পাঁচ বছরের পথ পরিক্রমায় কাঁদা ছোড়াছুড়ি মুক্ত পরিচ্ছন্ন ও কার্যকরী সংসদ হিসেবে সুনাম কুঁড়িয়েছে দশম জাতীয় সংসদ।

আদতে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছিল একটি বিতর্কিত নির্বাচন যেখানে ১৫৩ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিল। সে সময় যদি বাংলাদেশের জনগণকে প্রশ্ন করা হতো যে এই সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কিনা তাহলে খুব কম লোকের কাছ থেকেই হ্যা সূচক উত্তর পাওয়া যেত। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এই সংসদ শুধু পাঁচ বছর টিকেই থাকেনি বরং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে কার্যকর এবং দৃষ্টান্তমূলক সংসদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে।

বাংলাদেশে সরকারি দল, বিরোধী দলের অংশগ্রহণে মৌলিক সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা শুরু হয় মূলত ’৯১ সাল থেকে। এর আগের সংসদগুলো রাজনীতিবিজ্ঞানের আলোকে পূর্ণাঙ্গ সংসদ ছিল না। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর গঠিত ’৭৩ এর সংসদ ছিল একটি একতরফা সংসদ। যদিও আমাদের সংসদীয় গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ভিত্তিমুল প্রোথিত ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মধ্যেই তবে প্রেক্ষাপটের কারণে মুক্তিযুদ্ধের পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সংসদে আওয়ামী লীগই একক দল হিসেবে সংসদ পরিচালনা করেছিল। এরপর ক্যুদেতার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে কারচুপির নির্বাচন করে ’৭৯ তে যে সংসদ গঠন করলো সেটিও ছিল একতরফা। স্বৈরশাসক এরশাদের আমলেও একতরফা সংসদের দেখা মেলে যার কোনো কার্যকারিতাই ছিল না। পরবর্তীতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতন হয়। গণতন্ত্রের জন্য ওই সংগ্রামের পর ’৯১ সালে একটি অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ পায় বাংলাদেশের জনগণ। তখন আশা করা হয়েছিল এবার একটি কার্যকর, পরিচ্ছন্ন সংসদের দেখা পাওয়া যাবে।

দূর্ভাগ্যবশত জনগণের সেই আশা পূরণ হয়নি। বরং সংসদীয় গণতন্ত্রের এমন বিকট রূপ আমরা দেখলাম যেখানে সমস্ত সংসদীয় রীতিনীতি ভঙ্গ করে খিস্তি খেউর, অশ্লীল গালাগালি, নোংরা ভাষা প্রয়োগ এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সাংসদরা সংসদে এমন ব্যবহার করতেন, আলোচনা-বিতর্ককে এমনভাবে পাড়ার ঝগড়ার পর্যায়ে নিয়ে যেতেন যে সংসদীয় কার্যক্রম পরিবার নিয়ে বসে দেখা যেত না। এছাড়া সংসদীয় গণতন্ত্রে গালাগালির সংস্কৃতির পাশাপাশি আমরা পেলাম বর্জনের সংস্কৃতি। বিরোধীদলের সাংসদরা কথায় কথায় সংসদ বর্জন করতেন, কোনো সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করেই শুধুমাত্র সই করেই বেতন তুলতেন।

দশম জাতীয় সংসদ আমাদের এই দুটি গ্লানি থেকে মুক্তি দিয়েছে। দশম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সাংসদরা সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা, খারাপ কাজের নিন্দা করেছে। কোনো গালাগালি বা ব্যক্তি আক্রমণ হয়নি। দশম সংসদে ওয়াক আউটের মতো ঘটনাও ঘটেছে কিন্তু সংসদ কখনোই স্থবির হয়ে যায়নি। অর্থ্যাৎ দশম সংসদের মাধ্যমে সব মিলিয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ সংসদের দেখাই আমরা পেয়েছি

একথা সত্যি যে ২০১৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অনেক ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কিন্তু কার্যকারিতা ও পরিচ্ছন্নতার ভিত্তিতে দশম সংসদ সম্ভবত একটি উদাহরন হয়ে থাকবে। আগামীদিনের সংসদগুলো যদি দশম জাতীয় সংসদের অনুসরণ করে তাহলে বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র নতুন মাত্রা পাবে বলে মনে করেন দেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি