ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: মাদারীপুর- ৩ আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ১১:২৩ এএম
আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: মাদারীপুর- ৩ আসন

যতই ঘনিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন, ততই প্রকট হয়ে উঠছে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। মনোনয়ন পাওয়ার আগেই নিজের প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন অনেকেই। আবার দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংহতি বিনষ্ট করার অভিযোগও উঠছে কারও কারও বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্তর্কোন্দলে জর্জরিত এমনই একটি আসন মাদারীপুর-৩।

মাদারীপুর-৩ আসনটি আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। মাদারীপুর জেলার কালকিনী উপজেলা এবং মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন, ঝাউদি ইউনিয়ন, ঘটমাঝি ইউনিয়ন, মোস্তফাপুর ইউনিয়ন ও কেন্দুয়া ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনটি জাতীয় সংসদের ২২০নং আসন।

২,৯৭,৯৫৫ জন ভোটার সংবলিত এই আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের একক আধিপত্য বজায় রয়েছে। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সৈয়দ আবুল হোসেন নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনেও বিজয়ী হন তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৩৮টি ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ৪৮ হাজার হাজার ৩১৯ ভোট প্রাপ্ত বিএনপির মো. হাবিবুর রহমানকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। সে মেয়াদে সৈয়দ আবুল হোসেন মহাজোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সর্বশেষ ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন, সেবার সৈয়দ আবুল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।

এই দুজনই আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী। তবে এখানেই শেষ নয়। মাদারীপুর-৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ড.আব্দুস সোবাহান গোলাপ। তিনিও ধারে-ভারে কারো চেয়ে কম নন।

উল্লেখ্য, গত সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই আবুল হোসেন এবং বাহাউদ্দিন নাছিমের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলে আসছিলো। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বাহাউদ্দিন নাছিম কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ থেকে সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের গ্রুপের লোকদের পদ শূন্য ও বহিষ্কার করতে শুরু করেন। এতে আবুল হোসেন ও নাছিম পন্থীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রভাব ক্ষুণ্ণ করার জন্য আবুল হোসেন পন্থীরা নৌ-মন্ত্রী শাহজাহান খানকে কাল-কিনির রাজনীতিতে নিয়ে এসে নিজেদের পাল্লা ভারি করার চেষ্টা করছেন।

এছাড়া বাহাউদ্দিন নাছিমের কারণে আরেক হেভিওয়েট ক্যান্ডিডেট ড.আব্দুস সোবাহান গোলাপও নিজ এলাকা কালকিনিতে তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি। এসব কারণে তিনিও নাছিমের ওপর সন্তুষ্ট নন।

সব মিলিয়ে ত্রিমুখী লড়াইয়ে জমে উঠেছে মাদারীপুর আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক রাজনীতি। কিন্তু এই লড়াই প্রতিপক্ষকে আনন্দ দিলেও আওয়ামী লীগের জন্য যে অশনি সংকেত বয়ে নিয়ে আসবে এমনটাই ভবিষ্যৎ বাণী করছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ