ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৯ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ড. কামালকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার শেখাবেন কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০৩:১৫ পিএম
ড. কামালকে রাজনৈতিক শিষ্টাচার শেখাবেন কে?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি আরব সফর পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আজ সোমবার বিকেল ৪টায়। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠেয় এই সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী সৌদি সফরের আনুষঙ্গিক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশাপাশি আজ একই সময়ে অর্থ্যাৎ বিকেল ৪টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনও। ড. কামালের সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের সময়টাতেই ড. কামাল হোসেনের সংবাদ সম্মেলন ডাকা নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক পাড়ায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

একটা সময় ছিল যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার কোনো কর্মসূচি   থাকলে কোনো উপলক্ষ ছাড়াই বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একই দিনে, একই সময়ে কর্মসূচির ঘোষণা দিতেন। বিএনপির এমন আচরণ ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করা ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে ঘায়েল করার প্রচেষ্টার দৃষ্টিকটু বহিঃপ্রকাশ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় বা দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড প্রাপ্তিসহ বিভিন্ন কারণে বিএনপি এখন কিছুটা কোণঠাসা হওয়ায় তাদের দিক থেকে এমন কর্মসূচির ঘোষণা এখন সাধারণত আসে না। তবে বিএনপির নতুন রাজনৈতিক মিত্র ড. কামাল হোসেন ঠিক বিএনপির মতোই কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের দিনে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন তিনি। ধারণা করা হচ্ছে, ড. কামালের সংবাদ সম্মেলন ডাকার পেছনে ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্য দলের পরামর্শ রয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিতে স্বাভাবিক শিষ্টাচার হচ্ছে, দেশের প্রধানমন্ত্রীর যখন কোনো কর্মসূচি থাকে তখন একই সময়ে অন্য কেউ কোনো কর্মসূচি রাখে না। শুধু বাংলাদেশই নয়, পৃথিবীর সকল দেশেই এই শিষ্টাচার মেনে চলা হয়। কিন্তু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের স্বাভাবিক এই শিষ্টাচারটিই আজ ভঙ্গ করলেন ড. কামাল, যদিও সবাইকে নিয়ম করেই গণতন্ত্রের সবক দেন তিনি।

ড. কামাল হোসেনের এহেন পদক্ষেপ গণতন্ত্রের কোন শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে এবং এই ধরনের হীন রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা দেশের গণতন্ত্রের কোন উপকারে আসবে এমন প্রশ্নই এখন ঘুরে বেড়াচ্ছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি একই সময়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে নতুন বিতর্কের জন্মই দিলেন ড. কামাল হোসেন।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি