ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৫ আগস্ট ২০২১, ২১ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তাহলে কার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার, ১০:৪৮ এএম
তাহলে কার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন?

বহুল আলোচিত-সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস হয়েছে গত ১৯ সেপ্টেম্বর। এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতি সাপেক্ষে গত ৮ অক্টোবর থেকে আইনটি কার্যকরও করা হয়েছে। এই আইনে ইলেকট্রনিক মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রপাগান্ডা, প্রচারণা চালালে অথবা ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মিথ্যা, অশ্লীল তথ্য প্রচার করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের পর আশা করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারনেট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যম ব্যবহার করে তথ্য সন্ত্রাসের যে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা রোধ করা সম্ভব হবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তবে এই প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এখনো মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছে কিছু মানুষ। ডিজিটাল আইন তাঁদের কর্মকাণ্ডের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে নিয়মিত কুৎসা রটনা করে যাচ্ছেন নিউইয়র্ক প্রবাসী সাংবাদিক মিনা ফারাহ। জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউবে নিজস্ব চ্যানেল খুলে তিনি নিজের মনমতো মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিজের ভিডিওতে মিনা ফারাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফাঁসি চেয়েছেন, করেছেন ‘শেখ পরিবার’ গণভবন দখল করে রেখেছে এমন সব মন্তব্য। এছাড়া জামাতের পত্রিকাগুলোতে কলাম লিখে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত বিকৃত তথ্য উপস্থাপনেও তাঁর কোনো অলসতা নেই।

আরেক যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক শাহেদ আলম। ইউটিউবে ‘বাংলা ইনফো টিউব চ্যানেল’ খুলে ক্রমাগত সরকারবিরোধী মিথ্যা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই উদ্দেশ্যে  ‘সরকার-হেফাজত: কাছে আসার গল্প’ এর মতো আপত্তিকর ট্যগলাইনও ব্যবহার করতে দেখা গেছে তাঁকে। প্রধানমন্ত্রী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগও রয়েছে শাহেদ আলমের বিরুদ্ধে।

অনলাইন জগতের আরেক কুখ্যাত ব্যক্তি সেফাত উল্লাহ্‌ ওরফে সেফুদা। প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, পুলিশের আইজি কাউকে নিয়েই কুৎসা রটনা করতে বাকি রাখেননি তিনি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে ছাপার অযোগ্য, অশ্লীল সব মন্তব্য করে ভাইরাল অস্ট্রিয়া প্রবাসী সেফাত উল্লাহ্‌। সেফাত উল্লাহর ভিডিও ইউটিউব ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

এছাড়া পুরনো পাপী ‘বাঁশের কেল্লার’ কথা না উল্লেখ করলেই নয়। ফেসবুকের এই পেইজটি একাত্তরের চেতনা বিরোধী অপশক্তি দ্বারা পরিচালিত। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সম্পর্কে মিথ্যা অপপ্রচার করে আসছে পেইজটি। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সময় ‘বাঁশের কেল্লার’ ছড়িয়ে দেওয়া মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা সমস্যার সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু কখনোই কোনো আইনের আওতায় আসতে হয়নি পেইজটিকে।

শুধু বাঁশের কেল্লাই নয়, মিনা ফারাহ, শাহেদ আলম কিংবা সেফুদা সবাই মিথ্যা প্রপাগাণ্ডার মাধ্যমে সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখলেও সবসময়ই আইনের আওতার বাইরে থেকেছেন। আশা করা হয়েছিল, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাসের ফলে এই ধরনের ব্যক্তিদের ওপর আইন প্রয়োগ করা সম্ভব হবে, সম্ভব হবে তাদের সকল অপপ্রচার বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন যদি এসব তথ্য সন্ত্রাস বন্ধই করতে না পারে তাহলে কার জন্য এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন?

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি