ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মইনুলের বিরুদ্ধে আরও মামলা আসছে?  


প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০১:৪৫ পিএম
মইনুলের বিরুদ্ধে আরও মামলা আসছে?  

সম্প্রতি একটি বেসকারি টেলিভিশন টকশোতে নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে অশালীন মন্তব্য করে চরম বিতর্কিত হয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন। নারী সাংবাদিককে কটুক্তি করার কারণে দেশজুড়ে সোমালোচনার ঝড় বইছে। দেশজুড়ে একাধিক মানহানির মামলাও করা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তবে ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের কটূক্তির ঘটনা এবারই প্রথম নয়, এর আগেও তিনি নানা সময়ে, বিভিন্ন বিষয়ে কটুক্তি করে সমালোচিত ও বিতর্কিত হয়েছেন।  

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মইনুল বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে কে উদ্দেশ্য করে বলেছিল, ‘মির্জা আব্বাস কিসের রাজনীতিবিদ? সে তো একজন বাস ড্রাইভার। একজন বাস ড্রাইভারও যদি বাংলাদেশে রাজনীতিবিদ হয়, তাহলে সেই রাজনীতির কি অবস্থা হয় আপনারাই বোঝেন।’ এছাড়াও ঐ সময়ে মইনুল হোসেন বিএনপির বর্তমান সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘রুহুল কবির রিজভী কে? এরাতো হলো পলিটিক্যাল ক্লাউন। এদের বিষয়ে আমি আর কি বলবো।’  

ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আছে ১৯৭৪ সালে বাসন্তি নামে একজন পাগল মহিলাকে জাল পরিয়ে ইত্তেফাক পত্রিকায় একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। এই ছবির মধ্যে দিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা হয়। পঁচাত্তরের ঘাতকদের প্রোপাগান্ডা হিসেবে এই ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছিল। এই বাসন্তিকে জাল পরানোর পরিকল্পনাটি ছিল মইনুল হোসেনের।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারী মাসেও ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন দুটি টেলিভিশনের টকশোতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা রকম আপত্তিকর মন্তব্য করেন। ২০১৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারীতে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার/পৌরসভা নির্বাচন মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে মইনুল হোসেনের জাতির পিতাকে নিয়ে কটুক্তি করার বিষয়ে নেতারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ও ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের বিতর্কিত ভূমিকা ছিলেন বলেও নানা সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার মাধমে জানা যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভুমিকার কারণে ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মইনুল হোসেনকে মনোনয়ন দিতে চাননি বঙ্গবন্ধু। পরে তার (মানিক মিয়ার স্ত্রী) মায়ের অনুরোধে বঙ্গবন্ধু তাকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেন।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন ১৯৭৪ সালে বাকশাল হওয়ার প্রতিবাদে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর খুনি খন্দকার মোশতাক রাজনৈতিক দল খোলেন। মইনুল হোসেন সেই খুনিদের রাজনৈতিক দলের সদস্যও হয়েছিলেন।  

বাংলাদেশের যতগুলো অশুভ রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়, প্রতিটি পরিবর্তনে ব্যারিস্টার মইনুলের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক বিষয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ কথা বলা, অন্যকে ছোট করা এবং নোংরা কথা বলার জন্য ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বরাবরই কুখ্যাত।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন মাসুদা ভাট্টিকে ‘চরিত্রহীন’ বলে অশালীন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই মানহানির মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন ব্যরিস্টার মইনুল হোসেনের বিরুদ্ধে এবার নানা সময়ে করা বিতর্কিত মন্তব্যের কারনে আরও মামলা হতে পারে।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে