ঢাকা, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: মুন্সিগঞ্জ- ২ আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ১১:২০ এএম
আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: মুন্সিগঞ্জ- ২ আসন

কয়েকদিনের মধ্যেই ঘোষিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী দলগুলো বিভিন্ন আসনে তাদের মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণাও শুরু করবে শীঘ্রই। এবার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হয়ে জাতীয় সংসদের বিভিন্ন আসনে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছে যা দলটিতে অন্তর্কোন্দলের সৃষ্টি করেছে। মুন্সিগঞ্জ- ২ আসনেও বর্তমান এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি এবং অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আওয়ামী লীগের টিকেট চাইছেন। একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় আওয়ামী লীগের দলীয় সংহতিতে চিড় ধরেছে।

মুন্সিগঞ্জ- ২ আসনটি জাতীয় সংসদের ১৭২ নং আসন। লৌহজং উপজেলা ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩০৫৯৯৭ জন।

মুন্সীগঞ্জ-২ নির্বাচনী এলাকা এক সময় বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিলো। ১৯৯১ সালে ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী এম. হামিদুল্লাহ খান, ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও  ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মিজানুর রহমান সিনহা বিজয়ী হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির এই দুর্গের পতন ঘটান আওয়ামী লীগ প্রার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। ১ লাখ ৭ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহাকে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি। মিজানুর রহমান সিনহা পান ৯০ হাজার ৮৬টি ভোট। অবশ্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি ১৯৯৬ সালে মুন্সীগঞ্জ-নারায়ণগঞ্জ সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। মূলত এর পর থেকেই বিএনপি প্রভাবিত এই এই এলাকায় আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করে তুলতে শুরু করেন তিনি।

দুই বারের নির্বাচিত এমপি সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। এই উদ্দেশ্যে প্রায় প্রতিদিনই নির্বাচনী এলাকায় সরকারি কর্মসূচিসহ দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের এনেও এলাকায় দলীয় জনসভা করছেন।

একই আসনে আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। এলাকায় জনপ্রিয়তা বাড়াতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মাঝে মধ্যে এসে নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও দলীয় নেতাকর্মীদের তাঁর ওপর খুব একটা আস্থা নেই কিন্তু হাল ছাড়েননি তিনি। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে এলাকার ভোটারদের মাঝে পরিচিতি লাভের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এটর্নি জেনারেল।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অরাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসে হঠাৎ করে বর্তমান এমপিকে সরিয়ে মনোনয়ন লাভের চেষ্টা করায় অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমের ওপর অসন্তুষ্ট সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সমর্থকরা।

তবে রাজনীতির ময়দানে পরিচিত না হলেও এটর্নি জেনারেল প্রভাবশালী ব্যক্তি। আর সাগুফতা ইয়াসমিন আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত সৈনিক। সব মিলিয়ে এই দুইজনের দ্বন্দ্বে অস্বস্তিতে আছে আওয়ামী লীগের হাই কমান্ড।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি