ঢাকা, রোববার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চীনের তৎপরতায় তৎপর আ. লীগ 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০১৮ রবিবার, ০৪:৩০ পিএম
চীনের তৎপরতায় তৎপর আ. লীগ 

হঠাৎ করেই গত এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে চীন। দেশের রাজনীতিতে বর্তমানে আলোচিত কয়েকজনের সঙ্গে অল্প সময়ের ব্যবধানে সাক্ষাৎ করেছে চীনের প্রতিনিধিরা। বাংলাদেশের নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত জাতীয় ঐক্যফ্যন্টের প্রধান নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য অসুস্থ তরিকুল ইসলামকে দেখতে তাঁর বাসায় পর্যন্ত গিয়েছেন চীনের রাষ্ট্রদূত। সাধারণ এমন সাক্ষাতে বাংলাদেশস্থ বিদেশি দূতাবাসগুলোর কর্মকর্তারা একসঙ্গে গেলেও সাম্প্রতিক তৎপরতা চীন করছে একাই।

ভুটান, নেপাল, মায়ানমারসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যেও চীনের প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। পূর্বে চীনের মনোযোগ ছিল শুধু অর্থনৈতিক আধিপত্যের দিকে। অর্থনৈতিকভাবে দেশের নির্ভরতা বাড়ানোই ছিল চীনের একমাত্র লক্ষ্য। তবে গত তিন চার বছরে চীন তাদের ওই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে। বর্তমানে কোনো দেশের রাজনৈতিক বিষয়েও প্রভাব রাখে চীন। কারণ কোনো দেশের সরকারের পছন্দের বা সহমনা দল না থাকলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ও বাণিজ্য বিস্তারে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয় বলে দেশটির উপলব্ধি। আর এমন অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতেই বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, সহায়ক সরকারসহ নানা বিষয়ে চীনকে প্রভাব রাখার আহ্বান জানিয়েছিল বিএনপি নেতারা। তবে শুরুতে আবেদনে কোনো সাড়া দেয়নি চীন। এখন নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট নেতা ও বিএনপির নেতাদের সঙ্গে চীনের সাম্প্রতিক যোগাযোগ তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

একাধিক সূত্র বলছে, এই সরকারের আমলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ইতিহাসের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। সম্প্রতি সাবমেরিন ক্রয়, পাওয়ার প্লান্টসহ অনেক চুক্তিই হয়েছে চীনের সঙ্গে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ঘুরে গেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এরপরও কেন সরকার বিরোধী জোটগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে চীনের প্রতিনিধি।

জানা গেছে, গত কয়েকমাস পূর্বে চীনের ক্ষমতাসীন কম্যুনিস্ট পার্টির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। কথা ছিল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে একটি টিম চীনে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ওবায়দুল কাদেরের যাওয়া হয়নি। কিন্তু বিষয়টিকে চীন ভালোভাবে নেয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানের বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে চীনের তৎপরতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির ক্ষমতাসীন দলের উচ্চপর্যায়ে কথা বলতে শিগগিরই সেখানে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিদল। জানা গেছে,  আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল আজ রোববারই চীনে যাচ্ছেন। তবে ফারুক খান চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকে কতটা প্রভাব রাখবেন তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন আছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।  

বাংলা ইনসাইডার