ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংলাপ নিয়ে বিএনপিতে সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৯:৫০ এএম
সংলাপ নিয়ে বিএনপিতে সংকট

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানের পরপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আজ মঙ্গলবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সংলাপের জন্য আগামী ১ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রণ্ট ও আওয়ামী লীগের মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সংলাপকে কেন্দ্র করে বিএনপির মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।

এই প্রসঙ্গে বিএনপি নেতা মীর্জা আব্বাস বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া সংলাপের সিদ্ধান্ত কতটুকু যৌক্তিক এবং কারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ব্যাপারে তিনি জানেন না।

মীর্জা আব্বাস উদাহরণ টেনে বলেন, ’৭০ এর নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় কারারুদ্ধ ছিলেন, তখন আওয়ামী লীগ ছয় দফা প্রশ্নে আলোচনার টেবিলে বসেনি। এমনকি বঙ্গবন্ধুকে যখন প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার কথা চলছিল তখনও বঙ্গবন্ধু আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর মুক্তির পরই কেবল আওয়ামী লীগ গোলটেবিল বৈঠকে বসে। বঙ্গবন্ধু যেমন আওয়ামী লীগের অবিসংবাদিত নেতা, সেরকম খালেদা জিয়া বর্তমানে বিএনপির মূল নেতা। তাঁকে বাদ দিয়ে বিএনপি কীভাবে সংলাপ করবে এবং সে সংলাপ থেকে কী ফলাফল আসবে সে ব্যাপারে তাঁর যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মীর্জা আব্বাস। বিএনপির এই নেতা বলেন, এই সংলাপ প্রসঙ্গে তাঁর দল কী করবে তিনি জানেন না কিন্তু তিনি নিজে সংলাপে অংশ নেবেন না।

বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, সংলাপে যাওয়ার বিষয়ে ঐক্যফ্রন্ট যে চিঠি আওয়ামী লীগের নেতাদের কাছে পাঠিয়েছে, সেই চিঠির ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোনো রকম সিদ্ধান্ত ছাড়াই এ ধরনের সংলাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কে, কীভাবে নিল সেটি একটি বড় প্রশ্ন বলে মনে করছেন তাঁরা।

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল দল হলেও জোটের আহ্বায়ক হিসেবে সরকারের সঙ্গে সংলাপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। আর সরকার যে এত দ্রুত এই প্রস্তাবে ইতিবাচকভাবকে সাড়া দেবে তাঁরা তা আশা করেননি বলেও জানা গেছে।

গতকাল সোমবার জিয়া এতিমখানা মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আবারও ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর এই সময়টাতেই ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংলাপের ব্যাপারে চিঠি আদান-প্রদাণ এবং সংলাপ নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। তাই বিএনপির একটি বড় অংশ মনে করছে, এই সংলাপ আর কিছুই নয়, খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনকে অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার একটি কৌশল মাত্র।

পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, আজ মঙ্গলবার রাতে সংলাপ নিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা হবে। সেই সভাতেই আসন্ন সংলাপ বিষয়ে বিএনপি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন দলটির একাধিক নেতা।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি