ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ড. কামালকে মন্ত্রিত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৬:০০ পিএম
ড. কামালকে মন্ত্রিত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হবে

ড. কামাল হোসেনকে মন্ত্রিসভায় যোগদানের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় সংলাপে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এই প্রস্তাব দিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ৭ দফার কয়েকটি দাবি তাৎক্ষণিকভাবে মেনে নিতে পারেন। আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে এমন ধারণা পাওয়া গেছে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী বলেছেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য যা করা যায়, তাঁর সবটুকুই করবে সরকার।’ তিনি বলেন, ‘৭ দফা নয়, আলোচনা হবে সার্বিক বিষয়ে। আমাদের লক্ষ্য আগামী নির্বাচন সব দরের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু করা। এজন্য সবাই মিলে আমরা নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করব।’

আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ৭ দফার প্রথম দফা মানার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সংসদ এখন আপনা আপনি নিষ্ক্রিয়। এই মুহূর্তে সংসদ ভেঙে দেওয়ার সাংবিধানিক এখতিয়ার কারও নেই। তাই সরকারের পদত্যাগেরও সুযোগ নেই। এর পাল্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় ২ থেকে ৪ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেবেন। ৪০ জনের মন্ত্রিসভায় ৪ জন অনির্বাচিত মন্ত্রী হবার সুযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ২০১৪’র মতো, জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টকেও বলতে পারেন, কোন মন্ত্রণালয় চান?

আলোচনায় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি কিভাবে সম্ভব তা ড. কামাল হোসেনের কাছেই জানতে চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। হাইকোর্টের রায়ের পর আইনগত ভাবে তাঁর মুক্তি সম্ভব কি না সে প্রশ্ন করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।

ঐক্যফ্রন্টের দ্বিতীয় দাবির একাংশও এখন সাংবিধানিকভাবে অসম্ভব বলে আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা মনে করছেন। কারণ, ইতিমধ্যেই নির্বাচনের ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। তাই এই মুহূর্তে, নির্বাচন কমিশন পুন:গঠনের কোন সুযোগ নেই। তবে, দ্বিতীয় দাবির দ্বিতীয় অংশ ইভিএম ব্যবহার না করা। আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী হয়তো এই দাবিটির ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখাবেন। তৃতীয় দাবিটি, ‘বাক, ব্যক্তি, সংবাদপত্র, টেলিভিশন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সকল রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশের স্বাধীনতা এবং নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।’ এই দাবি ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগ মনে করে। তারপরও এটা নিশ্চিত করার জন্য ঐক্য ফ্রন্টের কাছে পরামর্শ চাওয়া হতে পারে। চতুর্থ দাবির ব্যাপারে ও সরকার বলবে যে, ইতিমধ্যে এই দাবির একটি অংশ প্রতিপালিত হয়েছে।

সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত ৫ম দাবিটি নির্বাচন কমিশনের বিষয় বলেই আওয়ামী লীগ মনে করে। একইভাবে ৬ষ্ঠ দাবিটিও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারাধীন বলে আওয়ামী লীগ সংলাপে ব্যাখ্যা করবে। আর ৭ম দাবিটি সত্য নয় বলে আওয়ামী লীগের দাবি। সংলাপে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে, এই ধরনের মামলা হয়ে থাকলে তাঁর তালিকা চাইবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংলাপে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের ধারা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টকে আহ্বান জানাবেন।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ