ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংলাপ করে কি হবে, প্রশ্ন তারেকের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০১৮ বুধবার, ০৬:০০ পিএম
সংলাপ করে কি হবে, প্রশ্ন তারেকের

লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া জানতে চেয়েছেন, ‘সংলাপ করে কি হবে।’ গতকাল রাতে তারেক বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতাকে টেলিফোন করে এ ব্যাপারে তিনটি প্রশ্ন করেন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, তারেক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন।

সংলাপ করে কি হবে? ছাড়াও অন্য যে প্রশ্ন দু’টি তারেক জিয়া করেছেন, সেগুলো হলো, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপি নির্বাচনে যেয়ে কি লাভবান হবে? এবং বিএনপি নির্বাচন না করে কি আন্দোলন করে সরকার পদত্যাগে বাধ্য করতে পারবে? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ছাড়া বিএনপির অন্য দুই নেতাই সংলাপের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান জানিয়েছেন। আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, ‘এই সংলাপ সরকারের একটি ফাঁদ। এর মাধ্যমে বিএনপি কিছুই অর্জন করতে পারবে না। অন্যদিকে সরকার এই সংলাপ দেখিয়ে কিছু রাজনৈতিক দলকে নিয়ে আর একটি প্রহসনের নির্বাচন করে নেবে।’ বিএনপির আরেক নেতা, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও সংলাপের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন। তারেক জিয়াকে তিনি বলেছেন, ‘এই সংলাপ সরকারকেই শক্তিশালী করবে। এর মাধ্যমে সরকারকে বৈধতা দেওয়া হবে।’ রিজভী বলেন ‘নেতা-কর্মীদের অন্ধকারে রেখে এই সংলাপ এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা।’

তবে, বেগম খালেদা জিয়াকে ছাড়া নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া প্রসঙ্গে, দুই বিএনপি নেতাই নির্বাচনে যাবার পক্ষে মতামত দিয়েছেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, ‘আইনগত ভাবে বিএনপির চেয়ারপারসনের নির্বাচন করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আপিল বিভাগ যদি কেবল তাঁর দণ্ড স্থগিত করে তাহলেই তিনি নির্বাচন করতে পারেন। তাই আমাদের উচিৎ চেয়ারপারসনকে ছাড়াই নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া।’ বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টুও একই মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকার বেগম জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই এসব করছে। তাই বিএনপিকে খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে বলেই তিনি তারেক জিয়াকে বলেছেন। অবশ্য রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বেগম জিয়াকে ছাড়া নির্বাচন কর্মীরা মেনে নেবে না। এতে বিএনপি অস্তিত্বের সংকটে পড়বে।

আর নির্বাচন বর্জনের ব্যাপারেও মওদুদ, মিন্টু নেতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। তাঁরা দুজনই বলেছেন, আন্দোলন করে সরকারকে হটানোর মতো পরিস্থিতি এখন নেই। আর এদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, এবারের নির্বাচন সরকার একতরফা করবে না, তারা ব্যবস্থা করে রেখেছে যেন বেশকিছু দল ও ব্যক্তি অংশগ্রহণ করে। তাই নির্বাচন বর্জন হবে আরেক আত্মহত্যা। অবশ্য রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন বর্জন করে আন্দোলনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, আন্দোলন করলে বিএনপির হারানোর কিছু নেই।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, তারেক এ ব্যাপারে আরও নেতাদের সঙ্গে কথা বলবে। এরপর তফসিল ঘোষণার আগেই তিনি বিএনপির করণীয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ