ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সংলাপ নিয়ে বিএনপি’তে বিদ্রোহ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৪:০০ পিএম
সংলাপ নিয়ে বিএনপি’তে বিদ্রোহ

বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গতকাল গণভবনে সংলাপে অংশ্রগ্রহন করেছিল বিএনপি। বহুল আলোচিত এই সংলাপে বিএনপির মূল দাবিগুলোর একটাও অর্জিত হয় নাই। গতকালের সংলাপ শেষে, সংলাপে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে বিএনপি’তে, দেখা দিয়েছে বিদ্রোহ।  

বিএনপির অধিকাংশ নেতা মনে করছেন, সংলাপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল ভুল। এই সংলাপ ছিল একটা ফাঁদ। এই ফাঁদে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি অংশগ্রহণ করেছিল। তারেক জিয়া সংলাপে অংশগ্রহণের জন্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে নির্দেশ দেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় অসুস্থার অজুহাতে সংলাপে অংশগ্রহণ করেন নাই। সংলাপ প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, এই সংলাপে কোনও ফলাফল হবে না। অর্থহীন একটা সংলাপ হবে বলে তিনি সংলাপে অংশগ্রহণ করেননি।

গতকালের সংলাপ শেষে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে, সংলাপের পরে কি হবে? জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এখন কি করবে? গতকাল রাত ১২ টায় ড. কামাল হোসেনের বাসভবনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা একসঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। সেখানে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন শেষে পরবর্তী করনীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে স্পষ্ট দ্বিধাবিভক্তি লক্ষ্য করা গেছে। কামাল হোসেন অহিংস আন্দোলন করার পক্ষে তাঁর স্পষ্ট মত দিয়েছেন। যেহেতু প্রধানমন্ত্রী কিছু পরামর্শ দিয়েছেন, সেগুলো পর্যবেক্ষন করে সভা সমাবেশ করে নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে তাঁর স্পষ্ট অবস্থানের কথা বলেছেন তিনি। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, জ্বালাও পোড়াও বা সহিংস আন্দোলনে তিনি নেই।

অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে চাপ বাড়ছে যে, যেকোনো উপায়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করতে হবে। যেদিন থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, সেদিন থেকে রাজপথ ঘেড়াও, অবরোধ, অসহযোগের আন্দোলন করার পক্ষে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকমহল এবং বিএনপির শীর্ষ মহলের নেতাদের ধারণা, এই রকম কর্মসূচি দেওয়ার মতো যে রাজনৈতিক সামর্থ্য থাকা দরকার, সেই সামর্থ্য এখন বিএনপির নেই। সংলাপ পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে আন্দোলন করার এখন পরিবেশও নেই। বিশেষ করে সংলাপের ফলে যে রাজনৈতিক আবহ তৈরি হয়েছে, তাতে তীব্র কোন আন্দোলনের পরিস্থিত স্তিমিত হয়ে গেছে। বিএনপির মধ্যে থেকে যারা সংলাপে অংশগ্রহণ করেছিল তাঁরা ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। তাঁরা মনে করেন, জনসংযোগ-জনসমাবেশ ইত্যাদি করেই আন্দোলনকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে নির্বাচনে যাওয়াটাই উচিৎ।

সংলাপের বাইরে বিএনপির যে শীর্ষ নেতারা রয়েছেন তাঁরা মনে করছেন যে, কোনওভাবে সংলাপ সভাসমাবেশ এবং সংলাপের মাধ্যমে নির্বাচনের জন্য এই সরকারকে বাধ্য করা যাবে না। এ অবস্থায় নির্বাচনে গেলে সরকারকে বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কোন পথ খোলা থাকবে না। তবে বিএনপির মধ্যে একটা অংশ তীব্রভাবে মনে করছে যে,  নির্বাচন করে যদি সংসদে একটা সন্মানজনক আসন নিয়ে বিরোধী দলের স্থানেও যাওয়া যায়, তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ অনান্য বিষয়ে দ্রুত সমাধানের পথ পাওয়া যাবে। এখন এই সংলাপের পরে বিএনপি এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের যে অন্তকলহ দেখা দিয়েছে, সেই অন্তকলহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে একদিকে যেমন অকার্যকর করতে পারে, তেমনিভাবে বিএনপিতেও ভাঙ্গনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। কারণ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ঘটনের পর থেকেই বিএনপির মধ্যে মতবিরোধ ছিল। বিশেষ করে ২০  দলকে অকার্যকর করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকে ঝুকে পরা, প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সংলাপে যাওয়া এবং সংলাপ শেষে কিছুই না পাওয়ার কারণে কর্মীদের মনোবল ভেঙ্গে দিয়েছে। এসব কারণে এখন বিএনপিতে রীতিমত বিদ্রোহ দেখা দিয়েছে। এই বিদ্রোহ বিএনপিকে ভাঙ্গনের দিকে নিয়ে যায় কিনা এখন সেটাই দেখার বিষয়।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে