ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নিয়ে অনৈক্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৬:০০ পিএম
গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নিয়ে অনৈক্য

আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রথম দফা সংলাপে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ ব্যক্তির নাম বলতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গতকাল শনিবার বৈঠকে কে হতে পারেন নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান তা নিয়ে আলোচনা হয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে। দ্বিতীয় দফা সংলাপে ঐক্য ফ্রন্ট, সহায়ক সরকার বা নির্বাচনকালীন সরকার প্রধানের নাম জানাতে চায়। কিন্তু এনিয়ে আলোচনায় প্রথম দিন একমত হতে পারেননি ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গতরাতে সহায়ক সরকারের নাম নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ড. মুহম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু জেএসডির আ. স. ম. আবদুর রব বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাঁর নাম কখনোই মানবে না। আওয়ামী লীগ তাঁর প্রকাশ্যেই সমালোচনা করে। তিনি ‘সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য’ কথাটির ওপর জোর দেন। ড. কামাল হোসেন সাবেক বিচারপতি ওয়াহাব মিয়ার নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু বিএনপি তাঁর ব্যাপারে আপত্তি তোলে। তাঁর নেতৃত্বে অনেকগুলো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও বিএনপি মন্তব্য করে। তাছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে সরানোর ক্ষেত্রে সরকার তাঁকে ব্যবহার করেছে বলেও বিএনপির একজন অভিযোগ উত্থাপন করেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেউ কেউ স্যার ফজলে হাসান আবেদের নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন নিজেই ঐ বৈঠকে জানান যে, ফজলে হাসান আবেদ কোনো ভাবেই এর সঙ্গে যুক্ত হবেন না। বৈঠকে সাবেক ক্যাবিনেট সচিব ড. আকবর আলী খানের নামও আলোচনা হয়। সেখানেও একজন জানান, তিনি এখন বেশ অসুস্থ। ড. কামাল হোসেন সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে কাউকে খুঁজে নেওয়ার পরামর্শ দেন। এক্ষেত্রে তিনি রাষ্ট্রপতি, স্পিকার অথবা বর্তমান অর্থমন্ত্রীকে বিবেচনায় নিতে বলেন। কিন্তু বিএনপি রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আপত্তি না করলেও অন্য দুজনের ব্যাপারে তীব্র আপত্তি জানায়। বিএনপি মহাসচিব অর্থমন্ত্রীকে একজন বিতর্কিত ব্যক্তি হিসেবে মন্তব্য করেন। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভায় প্রশ্ন ওঠে, রাষ্ট্রপতি যদি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হন, সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা কি হবে? সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন এর জবাবে বলেন, তাঁকে ‘দপ্তরবিহীন’ করা হলে তিনি নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবেন। কিন্তু বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ ঐ বৈঠকেই এ নিয়ে আপত্তি করে বলেন, দপ্তর না থাকলেও বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোতে প্রধানমন্ত্রী সবচেয়ে ক্ষমতাবান ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়া দুটি বিষয় ছাড়া কোনো বিষয়ই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি নিয়ে ফ্রন্টভুক্ত দলগুলো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। সরকারের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠকের আগে এ নিয়ে তাঁরা বৈঠক করবে এবং একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করবে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ