ঢাকা, সোমবার, ১০ মে ২০২১, ২৭ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: পাবনা- ১ আসন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ১২:০৫ পিএম
আওয়ামী লীগ বনাম আওয়ামী লীগ: পাবনা- ১ আসন

নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে, আগামী ৮ নভেম্বর ঘোষিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল। নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতীয় রাজনীতিতে একটি সংলাপের ধারা সৃষ্টি হয়েছে। সংলাপকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশায় বুক বাধছে দেশবাসী। কিন্তু জাতীয় রাজনীতিতে যখন শান্তির সুর, মনোনয়ন পাওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে দ্বন্দ্ব-সংঘাত ও বিভক্তির বাতাবরণ। পাবনা- ১ আসনেও বিভক্তি ও দ্বন্দ্বে অস্বস্তিতে রয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।

পাবনা-১ আসনটি জাতীয় সংসদের ৬৮নং আসন। সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেংগা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটলা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই নির্বাচনী এলাকার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৭ জন।

অতীতে এই আসনে বিএনপি-জামাতের আধিপত্য ছিল। ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান নিজামী, ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত ৭ম নির্বাচনে বিএনপির মেজর (অব.) মনজুর কাদের, ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও জামাতের মতিউর রহমান নিজামী এই আসন থেকে জয়লাভ করেন। এরপর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামাতের দূর্গে হানা দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ শামসুল হক টুকু এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৯৪ টি ভোট পেয়ে প্রায় ২২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জামায়াতে ইসলামীর মতিউর রহমান নিজামীকে পরাজিত করেন। নিজামী পান ১ লাখ ২৩ হাজার ৪টি ভোট। সেবারের নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির কোনো প্রার্থীই দাঁড়ায়নি। বর্তমানে পাবনা- ১ আসন থেকে নির্বাচিত এমপি আওয়ামী লীগের শামসুল হক টুকু।

টানা দুবার পাবনা- ১ আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু এবারও আওয়ামী লীগের হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। তাঁর পাশাপাশি এই এলাকার মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের আরেক ডাকসাইটে নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদের নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ দুই ভাগে বিভক্ত। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শামসুল হক টুকু আবু সাইয়িদকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে আবু সাইয়িদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। ওই নির্বাচনে সাইয়িদ ও তাঁর সমর্থকেরা টুকুর বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ করেন। তাই নির্বাচনে জয়ী হলেও টুকুকে মন্ত্রী করা হয়নি। এ খবরে সাইয়িদ সমর্থকেরা উল্লসিত হন। এ ঘটনায় সাইয়িদ সমর্থকেরা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেছিলেন বলেও জানা গেছে। আবার মিষ্টি বিতরণের ঘটনায় টুকুর পক্ষের লোকজন উল্লাসকারীদের যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক বলে অভিহিত করেন। কারণ তাঁদের দাবি, এলাকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে টুকুর মন্ত্রিত্বের প্রয়োজন ছিল। এ ঘটনা থেকেই শামসুল হক টুকু এবং আবু সাইয়িদের মধ্যকার দ্বন্দ্বে আঁচ টের পাওয়া যায়। নির্বাচনকে সামনে রেখে টুকু ওসাইয়িসের সমর্থক-কর্মীদের মধ্যেও উত্তাপ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য এই দুই প্রার্থী গণসংযোগের পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সভাসমাবেশ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে। তাঁদের পোস্টার-ব্যানারও চোখে পড়ছে এলাকাজুড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত পাবনা- ১ আসন থেকে আবু সাইয়িদ ও শামসুল হক টুকুর মধ্যে কে মনোনয়ন পাবেন তা জানার জন্য আমাদের আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ