ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২৯ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প ৫ দফা প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:০০ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প ৫ দফা প্রস্তাব

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফার বিপরীতে আওয়ামী লীগ ৫ দফা প্রস্তাব দেবে। আগামীকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। এই সংলাপে ৭ দফার বিপরীতে আওয়ামী লীগ বিকল্প প্রস্তাব দেবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে আনতে প্রধানমন্ত্রী যে প্রস্তাবগুলো দেবেন তা হলো:

১. তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় সংসদ নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। সংসদ সদস্যরা কোনো রকম সুযোগ-সুবিধা এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পাবেন না। আওয়ামী লীগ মনে করে সংসদের শেষ অধিবেশনের পর ইতিমধ্যেই সংসদ নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে।

২. প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারে সংসদের বাইরের দলগুলো থেকে আনুপাতিক হারে এক দশমাংশ মন্ত্রী নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী এলাকার বাইরে অন্য কোথাও নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো রাষ্ট্রীয় প্রটোকল পাবেন না।

৩. তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকার তাঁর কর্মকাণ্ড রুটিন দায়িত্বের মধ্যে সীমিত করবে। কোনো রকম প্রকল্প উদ্বোধন বা শুরু করা হবে না।

৪. নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করা হবে। তবে, তারা থাকবে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে। সিভিল প্রশাসনকে সহায়তা দেবে সেনাবাহিনী। 

৫. বেগম খালেদা জিয়া প্যারোলের আবেদন করলে সরকার তা বিবেচনা করবে।

আগামীকালের সংলাপে আওয়ামী লীগ স্পষ্ট করে বলবে যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ৬ নম্বর দাবি, যেখানে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের কথা বলা হয়েছে, তা যেন প্রতিপালিত হয় সেজন্য আওয়ামী লীগ নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করবে। ৭ নম্বর দাবি আওয়ামী লীগ নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে। আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, তাঁরা আশা করে ৭ দফার বিপরীতে এই বিকল্প প্রস্তাব জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মেনে নেবে। সংলাপ থেকেই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেবে। আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা তোফায়েল আহমেদ বিকল্প প্রস্তাবের ইঙ্গিত করে বলেন, ‘আমরা চাই জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে আসুক। এজন্য সংবিধানের আওতায় আমরা কিছু ছাড় দেবো। আশা করি তাঁরা এটাতে রাজি হবে।’ তিনি বলেন, ‘তাদের মনে যদি অন্যকিছু না থাকে, তাহলে অবশ্যই এই প্রস্তাবে তাদের রাজি হওয়া উচিৎ।’ অবশ্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ. স. ম. আবদুর রব বলেছেন, ‘আমরা ৭ দফা দিয়েছি। আমরা মনে করি এই ৭ দফা যৌক্তিক। এখন সরকার যদি বিকল্প কোনো ভালো প্রস্তাব দেয়, আমরা যদি মনে করি সেটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যথেষ্ট, আমরা নিশ্চয়ই তা বিবেচনা করবো।’

তিনি বলেছেন, ‘আগামীকালের বৈঠকেই এই সংলাপ ফয়সালা হবে এমনটা আমি মনে করি না। সংলাপ আরও চলতে পারে।’ তবে, আওয়ামী লীগের নেতা ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কালকের পর আর কোনো সংলাপ হবে না।’

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ