ঢাকা, বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপি কি চমকে দেবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৮:০০ পিএম
বিএনপি কি চমকে দেবে?

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এখন কারাগারে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া লন্ডনে পলাতক। দলের একটি বিরাট অংশের নেতা-কর্মীরাও মামলা, হুলিয়া ইত্যাদি মাথায় নিয়ে হয় পলাতক, না হয় আত্মগোপনে রয়েছে। মনোনয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কমপক্ষে ১০০ জন নির্বাচন করতে পারবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তারপরও বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলেই দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, ভোটকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেই এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে যাবে কি না, সেটি নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিএনপি যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যায়, সেই ভোট হবে খালেদা জিয়ার মুক্তির ভোট, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ভোট। নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ না হয়, সেই মুখোশ উন্মোচনের ভোট।’

বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, বিএনপি যদি জোটগত ভাবে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ৫ টি কারণে বিএনপি চমকে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে এই নির্বাচন হবে নাটকীয়তায় ভরা নির্বাচন। যে ৫ কারণে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেগুলো হলো:

১. বিএনপি মনে করছে, বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন কমিশন তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করবে। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন যেমন সরকারের পক্ষপাতদুষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে, সরকারের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপি নির্বাচনে গেলে নির্বাচন কমিশনে সাহস তৈরি হবে এবং তখন নির্বাচন কমিশনের চেহারা পাল্টে যাবে। নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে বিএনপির একাধিক নেতার যোগসূত্র রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সদস্য বিএনপিকে আশ্বস্ত করেছে, বিএনপি নির্বাচনে গেলেই অবস্থা পাল্টে যাবে। তখন নির্বাচন কমিশন অন্য চেহারায় আসবে।

২. বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের একটি বড় অংশ এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে নিরপেক্ষতা চলে আসবে। সেখানে যারা বিএনপি পন্থী হিসেবে পরিচিত আছেন, যারা নিষ্ক্রিয় ও চুপচাপ আছেন তাঁরা সক্রিয় হবে ও বিএনপির পক্ষে যাবেন।

৩. বিএনপি মনে করছে, বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশের মানুষের যে চাপা ক্ষোভ ও অনাস্থা রয়েছে, তারা নির্বাচনে গেলেই জনগণ ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে থাকবে। ভোটের মাধ্যমে মানুষ সরকারের সমস্ত অনিয়ম, অনাচার ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার চেষ্টা করবে।

৪. বিএনপির দাবি, বেগম খালেদা জিয়ার আটক ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের আটকের ফলে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আবেগ তৈরি হয়েছে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্যই জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। নিপীড়িত, নির্যাতিত ও ভুক্ত-ভোগীদের পক্ষে অবস্থান করা হলো বাংলাদেশের মানুষের একটা স্বাভাবিক প্রকৃতি। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা একটি জোয়ার সৃষ্টি করতে পারবে বলে মনে করছে ।

৫. আওয়ামী লীগের মধ্যে যে কোন্দল, বিভক্তি ও অসঙ্গতি রয়েছে, এর কারণে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ ভাবে নির্বাচন করতে পারবে না বলেই বিএনপির ধারণা। সেক্ষেত্রে এই নির্বাচন বিএনপির জন্য ইতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসবে।

পাশাপাশি বিএনপি মনে করছে, যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ২০ দলীয় জোট একসঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে তারা এবারের নির্বাচনে সবাইকে চমকে দিতে পারে। বিএনপি এবারের নির্বাচনকে ৯১’ এর নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করছে। সে নির্বাচনে সবাই প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসীন হবে। কিন্তু জনগণের নীরব ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপি মনে করছে, এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করলে, তাদের পক্ষেই ভোট বিপ্লব ঘটবে।

 

বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ