ঢাকা, বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ২ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আবার নির্বাচন পেছানো নিয়ে বিভক্ত ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:৪৮ এএম
আবার নির্বাচন পেছানো নিয়ে বিভক্ত ইসি (বা থেকে) প্রধান নির্বাচন কমিশনার নুরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম, রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী

নির্বাচন পেছানো নিয়ে বাংলাদেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবির মুখে নির্বাচনের তফসিল পেছানো নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নির্বাচন কমিশন।

গতকাল বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাতে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন কমিশনের কছে তিন সপ্তাহ নির্বাচন পেছানোর দাবি জানায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ বলছে, নির্বাচনের সময় এক ঘণ্টাও পেছানো যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা এবং নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর পক্ষে। পূর্ব নির্ধারিত ৩০ ডিসেম্বরের সময়সূচি বদলে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পক্ষপাতী তাঁরা। এক সপ্তাহ নির্বাচন পেছালে সাংবিধানিক কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না বলেই মনে করছেন নুরুল হুদা ও মাহবুব তালুকদার। কারণ সহিংসতা বা ভোট জালিয়াতির মতো কারণে যদি কোনো ভোটকেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হয়ে যায় তাহলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ১০ দিন পর সেসব কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে। তারপরই নির্বাচনের সকল কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। আর সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ পূর্তির পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিলে সংবিধানের এই বিধানের কোনো লঙ্ঘন হবে না।

কিন্তু অন্য তিন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, কবিতা খানম এবং রফিকুল ইসলাম তিনজনই নির্বাচনের তফসিল পেছানোর বিরুদ্ধে। তাঁরা মনে করছেন, বারবার ঐক্যফ্রন্টের চাপের মুখে নতি স্বীকার করে নির্বাচন পেছাতে থাকলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনই ঝুঁকির মুখে পড়বে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে নির্বাচন আয়োজন করলে তাঁরা তিনটি বাস্তব সমস্যা হবে বলে চিহ্নিত করেছেন। জানুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রথম সমস্যা হচ্ছে, তখন স্কুলগুলো সব খুলে যাবে। ফলে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য স্কুলগুলো পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয়ত, যাদের বয়স ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারিতে ১৮ বছর হয়ে যাবে তারা নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ভোট দেওয়ার যোগ্য হয়ে যাবেন। কিন্তু বর্তমান ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণে তারা একাদশ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না। কাজেই তা নিয়ে একটি আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। তৃতীয়ত, এবারের নির্বাচনে সবগুলো দল স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনাবাহিনী নিয়োগ করার ব্যাপারে একমত হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, নির্বাচনের তারিখ পিছিয়ে যদি জানুয়ারিতে চলে যায় তাহলে সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া শুরু হয়ে যাবে। শীতকালীন মহড়া চলাকালে সেনাবাহিনীর পক্ষে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হবে না। এই তিন আপত্তির কারণে তিন নির্বাচন কমিশনার নির্বাচন পেছানোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচন পেছাবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের পর।

বাংলা ইনসাইডার/এসএইচটি/জেডএ