ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৫ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভাসানীর উত্তরাধিকার কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১২:২৮ পিএম
ভাসানীর উত্তরাধিকার কোথায়?

আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ছেড়ে নতুন একটি দল প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বিপুল জনপ্রিয় থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেননি তিনি। একদিকে তিনি আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক ছিলেন, অন্যদিকে প্রয়োজনে আওয়ামী লীগের পাশেও ছিলেন তিনি। একদিকে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ ছিলেন, আবার কখনো কখনো ধর্মচর্চাকে রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেলতেন।

রাজনীতির মূল অংশই হচ্ছে জনগণ। আর সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সম্পৃক্ততা ছিল অনেক। শোষণ ও বঞ্চনাহীন এবং প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বের ভিত্তি ছিল সমাজের খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ, কৃষক-শ্রমিক-সাধারণ জনগণ। কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ জনগণের অধিকার তেভাগা ও ‘লাঙ্গল যার জমি তার’ আন্দোলন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি এবং বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নির্ভীক অবস্থানের কারণে তিনি মজলুম জননেতা হিসেবে আখ্যা পান। কিন্তু তাঁর রাজনীতির এই ধারা তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বিস্তৃত হয়নি। এদের মধ্যে অধিকাংশই বিভ্রান্ত হয়ে পথহারা রাজনীতির চর্চা করছে। তারা অনেকেই উগ্র বাম, বিএনপি, অনেকেই আবার দক্ষিণপন্থী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছেন। কেউ কেউ আবার যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গেও।

মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ১৯৫৭ সালে কাগমারীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক কাগমারী সম্মেলন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন মওলানা ভাসানী। বঙ্গবন্ধুও তাঁকে পিতার মতো শ্রদ্ধা করতেন। ঐ সমসাময়িক সময়ে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ছিল তাঁর। ভুল রাজনীতির দর্শন যে মানুষকে ভবিষ্যৎ অমরত্ব থেকে বঞ্চিত করে তার নিদর্শনই হচ্ছেন ভাসানী। এত জনপ্রিয়তা থাকার সত্ত্বেও আজ তাঁর মতাদর্শের রাজনীতির চর্চা অদৃশ্যমান। এজন্যই হয়তো আজ এই মজলুম জননেতার ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী হওয়া শর্তেও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মসূচি একেবারেই কম।

রাজনীতিতে শুধুমাত্র জনগণের হাততালিই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি সঠিক আদর্শও জরুরি। আমৃত্যু সেই আদর্শকে লালন করতে হয়। সেই সঙ্গে রেখে জেতে হয় সঠিক উত্তরাধিকার। যদি কোনো রাজনীতিবিদ এটাতে ব্যর্থ হয়, তবে কালের অতল গর্ভে হারিয়ে যাবেন তিনি, এটাই স্বাভাবিক।

বাংলা ইনসাইডার/বিকে/জেডএ