ঢাকা, রোববার, ১৩ জুন ২০২১, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিএনপির টার্গেট দুই তৃতীয়াংশ আসন 

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৮:১০ পিএম
বিএনপির টার্গেট দুই তৃতীয়াংশ আসন 

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি বিএনপি। তবে এবারের আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বিএনপি অনেক নাটক, নানা তালবাহানা এবং অজুহাতের পর অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুটি জোট নিয়ে তাঁরা এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। আগামীকাল থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হবে। তবে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে বিএনপির কে কোথায় মনোনয়ন পাবেন, তা ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার শুধুই আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি এবারের নির্বাচনে যে কোনো মূল্যে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে চায়। কারণ বিএনপি এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোট মনে করছে , দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারলে, তাহলে তাঁদের পক্ষে সংবিধান সংশোধনসহ আরও অন্যান্য যে কাজগুলো তাঁরা করতে চায়, সে কাজগুলো করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব হবে না।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র মনে করছে, এবারের নির্বাচনের কৌশল হিসেবে বিএনপি তাঁর দুই জোটের শরিকদের জন্য ১০০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে ২০ দলীয় জোটের জন্য বিএনপি ৪০ থেকে ৫০টি আসন এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জন্য ৫০ টি আসন দেওয়া হবে বলে বিভিন্ন সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। তবে বিএনপির একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য যিনি বিএনপির নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত তিনি বলেছেন, ‘শরিকদের জন্য বিএনপি সর্বোচ্চ ৬০ টি আসন হয়তো ছেড়ে দেওয়া হবে।’ তবে বিএনপির অন্যে একজন নেতা বলেছেন, ‘এবার আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ শিকার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। শরিকদের মধ্যে যে কোনো ধরণের মতবিরোধ না হয় সে জন্য আমরা শরিকদের জন্য সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন ছেড়ে দিব।’  

শরিকদের জন্য বিএনপি বেশি সংখ্যক আসন ছেড়ে দেওয়ার আরও একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিএনপির সম্ভাব্য অনেক প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। বিএনপির অনেক নেতা এখন কারাগারে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপির অনেক নেতা বিভিন্ন মামলায় পলাতক রয়েছেন, অনেক নেতা আবার নানা মামলায় জর্জরিত। এসব কারণে বিএনপির অনেক নেতা অংশগ্রহণের অযোগ্য হয়ে পড়েছেন। তারা নির্বাচনে খুব বেশি সুবিধা করতে পারবে না। এ কারণে বিএনপি চাইছে শরিকদের মধ্যে যারা মামলা ও নির্বাচনের অযোগ্যতা এড়িয়ে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, তাঁদেরকেই ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাতে। বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘যেহেতু শরিকদের সবাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন, তাই কে কত আসন পেল, সেটা কোনো বিষয় না। নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ধানের শীষ মানেই হলো বিএনপি। যেখানে যাকে বিজয়ী করা যায় সেই অনুযায়ী আমরা ধানের শীষের প্রার্থী চূড়ান্ত করবো।’

বিএনপি তাঁর মনোনয়ন কৌশলে যে আসনগুলো তারা কখনোই পাবে না এমন ৫০ থেকে ৫৫টি আসন চিহ্নিত করেছে। এই আসনগুলো হলো রংপুরের অঞ্চলের ৬ টি আসন, বৃহত্তর রংপুরের ১২ টি আসন তাঁদের পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলেই বিএনপি বিবেচনা করছে। গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, বাগেরহাট এবং নড়াইল এই অঞ্চলগুলোতে বিএনপি অনেক দুর্বল। এইসব অঞ্চলে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা অনেক কম বলেই বিএনপি মনে করছে। এই ৩০ থেকে ৩২ টি আসন বাদ রেখে বাকি আসনগুলোতে বিএনপি মনযোগী হচ্ছে। 

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, যে আসনগুলো তাঁরা পাবেন না। যেমন গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরিয়তপুর, বাগেরহাট এবং নড়াইল এই আসনগুলোতে তাঁরা খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন না। এইসব আসনে প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা খুব বেশি গুরুত্ব প্রদান করবে না। বরং এই অঞ্চলের প্রার্থীদের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হবে, তাঁরা যদি কোনও কিছু করে জয়ী হয়ে আসতে পারে, সেটা তাঁদের বিষয়। বৃহত্তর রংপুরে বিএনপির অবস্থান হলো তৃতীয়। এখানে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে। এই আসনগুলোতে বিএনপি তাঁর অন্য শরিকদের মধ্যে বিলি করতে চায়, যেমন জামায়াত বা ঐক্যফ্রন্টের অন্য যারা আছে তাঁদেরকে রংপুরের আসনগুলো দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে বিএনপি।

বিএনপির সর্বশেষ হিসেব অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে যে, ৩২ টা থেকে ৪০ টা আসনে তাঁদের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনও সম্ভাবনা নেই। এই আসনগুলো বিএনপি শরিকদের দিয়ে দিতে চায়। যে আসনগুলোতে তাঁদের জয়ের সম্ভাবনা বেশি আছে যেমন, বগুড়া, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর আসনগুলো তাঁরা ঐক্যফ্রন্ট বা ২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে কমই দিতে চায়।  

বিএনপির মনোনয়নের দ্বিতীয় কৌশল হলো, শহরাঞ্চলের আসনগুলোতে বেশি প্রধান দিতে চান তাঁরা। যেমন ঢাকা মহানগরী, চট্টগ্রাম মহানগরী, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল এইসব অঞ্চলে তাঁরা নির্বাচনের জোরালো প্রচারণা চালাতে চান। বিএনপির নেতৃত্ববৃন্দ মনে করছেন শহরাঞ্চলে যদি জোয়ার তোলা যায়, তাহলে গ্রামাঞ্চলের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও নির্বাচনে ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বিএনপি এবং তাদের জোটের জন্য। তবে এই নির্বাচনে বিএনপি মনে করছে, তাঁদের জন্য সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হচ্ছে, এই নির্বাচনে তারা ড. কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকিসহ ঐক্যফ্রন্টের অন্যান্যদের অভিন্ন প্রতীক ধানের শীষ দিতে পেরেছে। এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লারও নিবন্ধন নাই নির্বাচন করার। তাই জামাতকেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। তাই বিএনপি এবং বিএনপি নেতৃত্বাধীন দুই জোট একটি অভিন্ন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করবে। বিএনপি মনে করছে তাঁরা যদি শহরাঞ্চলে ভালো ফলাফল করতে পারে, তাহলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তারা চমকে দেওয়ার মত অপ্রত্যাশিত ফলাফল করবে।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ