ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বঞ্চিতদের দেওয়া হবে পদ, মন্ত্রিত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২১ নভেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৭:০০ পিএম
বঞ্চিতদের দেওয়া হবে পদ, মন্ত্রিত্ব

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেই মহাজোটের ঐক্য ধরে রাখলো। ৭০টি আসন ছেড়ে দিলো শরিকদের জন্য। এই আসন ছাড়তে গিয়ে ত্যাগ স্বীকার করলেন দলের অনেক জনপ্রিয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টন ছাড়াও বিভিন্ন কারণে, দলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবার মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ব্যক্তিগতভাবে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। দলের স্বার্থে, দলের জন্য কাজ করার অনুরোধ করেছেন।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী মনোনয়ন বঞ্চিতদের একটি বার্তাই দিয়েছেন, তা হলো ‘দল জিতলে সব কিছুই হবে। মূল্যায়নও করা যাবে। কিন্তু দল হারলে কিছুই থাকবে না।’

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বঞ্চিতদের জন্য একগুচ্ছ পুরস্কার রেখেছেন। তবে শর্ত হলো, নির্বাচনে তাঁর এলাকায় নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে হবে।

সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকায় এবার সবচেয়ে বড় অঘটন হলো দুই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নাম বাদ যাওয়া। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এদের একজন যিনি ফরিদপুর এলাকা থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তাকে নির্বাচনের পর দলের প্রেসিডিয়ামে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। আরেকজন যুগ্ম সম্পাদক যিনি ঢাকার একটি আসন থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বুঝিয়েছেন, সান্ত্বনা দিয়েছেন, মায়ের মমতায় স্নেহ করে বিদায় দিয়েছেন।আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, দল জিতলে ঐ যুগ্ম সম্পাদককে মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে।

একজন সাংগঠনিক সম্পাদক যিনি মাদারীপুর থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এই সাংগঠনিক সম্পাদক দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সভাপতির ব্যক্তিগত স্টাফ হিসেবে কাজ করেছেন। ৯৬-২০০১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নির্বাচন নয়, আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় এলে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। দলের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক শরীয়তপুর থেকে মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তাঁকে দলীয় কার্যক্রমে আরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এছাড়াও শরিকদের সঙ্গে আসন বণ্টনের জন্য প্রয়াত মহিউদ্দিন আহমেদের ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত পছন্দের। নির্বাচনে জয়ী হলে তাঁকে দলের অথবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রী নিজেও মনে করেন মনোনয়ন না পাওয়া একজন রাজনীতিবিদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবুও দলের স্বার্থে যাঁরা ত্যাগ স্বীকার করবে, তাদের দলও পুরস্কৃত করবে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ