ঢাকা, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আওয়ামী লীগ-জাপা বিরোধ যে আসনগুলোতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার, ১০:২১ এএম
আওয়ামী লীগ-জাপা বিরোধ যে আসনগুলোতে

আওয়ামী লীগ গতকাল রোববার ২৩০টি সংসদীয় আসনে তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। শরিকদের জন্য তারা ৭০ টি আসন সংরক্ষিত রেখেছে। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখনো পর্যন্ত মহাজোটের শরিকদের চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে জানা গেছে। আগামী ৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন। তার আগেই আওয়ামী লীগ শরিকদের সঙ্গে আপোষরফায় পৌঁছাতে পারবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে যে আসনগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা হয়নি এবং কোনো পক্ষই যে আসনগুলোতে ছাড় দিতে রাজি না এরকম কয়েকটি আসন বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।

ঢাকা-১

ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগ বিশিষ্ট শিল্পপতি সালমান এফ. রহমানকে ইতিমধ্যেই মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সালমা ইসলাম। তিনি বর্তমানে জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির টিকেটে এমপি। ঢাকা-১ আসনটি জাতীয় পার্টি কোনোভাবেই ছাড় দেবে না বলে দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। আরেকটি বড় বিষয় হলো, এই আসনে যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেই সালমা ইসলাম যুগান্তর এবং যমুনা টেলিভিশনের অন্যতম কর্ণধার। কাজেই এই আসনটি নিয়ে যে দরকষাকষি তার ফলাফল কি হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

ঢাকা-১৭ ও নারায়নগঞ্জ- ১

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ঢাকা-১৭ অথবা নারায়নগঞ্জ-১ এর যেকোনো একটি আসন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। কিন্তু গতকাল রোববারের মনোনয়নে দেখা গেছে, ঢাকা-১৭ এবং নারায়নগঞ্জ-১ দুটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। নারায়নগঞ্জ-১ এ গাজী গোলাম দস্তগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা-১৭ আসনে আকবর পাঠান ফারুককে প্রার্থী ঘোষনা করা হয়েছে। এই দুটি আসনের মধ্যে একটি আসন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে দিতেই হবে বলে দাবি করছে জাতীয় পার্টি। আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে এই দুটি আসন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ফয়সালা হয়নি বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম-৯

চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগ দলটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে। কিন্তু এই আসনের বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টির প্রভাবশালী সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। সেক্ষেত্রে তাকে বাদ দিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐক্য কতটুকু টিকবে তা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় এই আসনটি নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির মধ্যে চুড়ান্ত দরকষাকষি চলছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, যাদেরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদেরকে বললেই তারা দলের স্বার্থে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন। আমাদের সামনে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। এরমধ্যে মহাজোটগতভাবে যেকোনো সিদ্ধান্ত যদি আমরা নেই, সেটা দলের সকলের জন্য মানা বাধ্যতামূলক।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি