ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মহাজোটের মনোনয়নে রওশনপন্থীদের প্রাধান্য, বেকায়দায় এরশাদ-কাদের

বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৬ নভেম্বর ২০১৮ সোমবার, ০১:১৬ পিএম
মহাজোটের মনোনয়নে রওশনপন্থীদের প্রাধান্য, বেকায়দায় এরশাদ-কাদের

জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের আসন বন্টনে সমঝোতা হলেও প্রার্থী বাছাইয়ে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদপন্থীদের। এবারও মহাজোটে অনেকটা কোণঠাসা  হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ও তাঁর ভাই জিএম কাদের। জাপার নীতি-নিধারনী সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন বেগম রওশন এরশাদ। আর এসব কারণে এরশাদপন্থীরা মহাজোটের সঙ্গে দরকষাকষিতে বেশ হাঁপিয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। এদিকে,ব্যক্তিস্বার্থে দলকে বলি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বেঁধে নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে তিনি নিজের স্ত্রী নাসরিন জাহান রত্নার আসন দুটি নিশ্চিত করেছেন সবার আগে এমন অভিযোগের তীর মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে। আর এসব বিষয় নিয়ে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে।

একাধিক সূত্র জানায়, বেগম রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে যে তালিকা দিয়েছেন তাতে ৪০টি আসন দাবি করা হয়েছে আর জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ যে তালিকা দিয়েছেন তাতে ৬৫টি আসন দাবি করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা দুটি তালিকা যাচাই-বাছাই করে যেসব স্থানে জাতীয় পার্টি প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল শুধুমাত্র যে আসনগুলোকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের এক নীতি-নির্ধারক জানান, এরশাদের দেয়া তালিকায় অনেক গরমিল রয়েছে। অহেতুক কিছু আসন চাওয়া হয়েছে যার সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। বিগত দিনে এসব আসনে জাপা প্রার্থীরা জয়ী হতে পারেনি, উপরন্ত দেখা গেছে অনেক প্রার্থীর জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তবে বেগম রওশন এরশাদের দেওয়া তালিকাকে যৌক্তিক মনে করছে আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণীমহল।

জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানায়, আসন বন্টন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা হয় হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের। আর আলাদাভাবেও শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলেন জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও। ঢাকাসহ বেশ কয়েকটি আসন নিয়ে এরশাদের অবস্থান পরিস্কার না হওয়ায় বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে মহাজোটের নেতারা। বিশেষ করে সালমান এফ রহমানের আসনে জাপা ছাড় দেবেনা আওয়ামী লীগ। আবার এ আসনে আওয়ামী লীগকেও ছাড় দেবেনা জাপা। একই অবস্থা এরশাদের নিজ আসন গুলশান নিয়ে। যদিও শেষ অবধি গুলশানে জাপাকে ছাড় দিতে পারে আওয়ামী লীগ।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ