ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘জামাত কি বিএনপির অঙ্গসংগঠন?’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০৯:০০ পিএম
‘জামাত কি বিএনপির অঙ্গসংগঠন?’

বিদেশী কূটনীতিকরা প্রশ্ন করলেন, ‘জামাত কি তাহলে বিএনপির অঙ্গসংগঠন?’ আজ বিকেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি ওই প্রশ্ন করেন। জামাত কেন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে, এই প্রশ্ন বৈঠকে ঘুরেফিরে আসে। বৈঠকে বিএনপি নেতারা এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রশ্ন ছিল, বিএনপির মনোনয়ন তালিকায় বিতর্কিত ব্যক্তিরা কেন? এ প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কোনো বিতর্কিত নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।‘ তিনি দাবি করেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১০ বছরে মামলা দিয়ে তাঁদের বিতর্কিত করেছেন।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা জানতে চান, ‘তারেক তো বিদেশে অবস্থান করছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারেক কেন? এই প্রশ্নের উত্তরও বিএনপি নেতৃবৃন্দ এড়িয়ে যান।’ অবশ্য একজন বিএনপি নেতা বলেন, তারেক জিয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। কাজেই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তারেক জিয়ার অংশগ্রহণ দোষের কিছু নয়। তবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, একজন দণ্ডিত একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে থাকতে পারে কিনা। তারেক জিয়া দেশে এসে আইনি লড়াই করেনা কেন, এই প্রশ্নও ওঠে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি উপযুক্ত সময়ে দেশে ফিরবেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, বেগম জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি? বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলেন, তিনি নিশ্চয়ই নির্বাচন করতে পারবেন। জনতার রায়ে মুক্ত হবেন বলেও বিএনপি মহাসচিব বৈঠকে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে, ড. কামাল হোসেনের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা। তিনি নিজে নির্বাচন না করলেও নির্বাচন পরিচালনা কার্যক্রমে তিনিই নেতৃত্ব দিবেন। এছাড়াও বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে কথা হয়। বিএনপির নেতৃবৃন্দ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। বিএনপি নেতাদের ধরপাকড় প্রসঙ্গেও ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতৃবৃন্দ । তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আশা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত ভোটে থাকার অনুরোধ করেন। বিএনপি নেতারা বলেন, কোন অবস্থাতেই তারা ভোট বর্জন করবেন না। 

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ