ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভারতের বিপক্ষে কেউ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১০:০০ পিএম
ভারতের বিপক্ষে কেউ নেই

বাংলাদেশের প্রতিটি নির্বাচনেই ভারত একটা বড় ভূমিকা পালন করে। আর নির্বাচনের সময় দেখা যায় একটা পক্ষ ভারতের পক্ষে কথা বলে। আরেকটা পক্ষ ভারতের বিরোধিতা করে। ১৯৯১ সাল থেকে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারায় জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। ৯১ সালের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে দেখা যায় একটা দল ভারতের পক্ষে এবং আরেকটি দল ভারতের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভারত বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল। বিএনপি সেসময় দাবি করেছিল, আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা গেলে বাংলাদেশ ভারতের দখলে চলে যাবে। সেসময় বিএনপি ভারত বিদ্বেষী মনোভাবের কারণেই সেই নির্বাচনে জয় লাভ করেছিল।

১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভারতের প্রতি পক্ষপাত করেছিল। এই নির্বাচনেও বিএনপি ভারতের প্রতি নানা রকম বিষোদগার করে নির্বাচনের মাঠ গরম করেছিল। ৯৬ সালের নির্বাচনের আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছিল। আওয়ামী ক্ষমতায় এসে সেসময় গঙ্গা পানি চুক্তি, পার্বত্য শান্তি চুক্তির মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছিল।

২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি আবারো ভারত বিরোধিতার ঝড় তুলে নির্বাচনের মাঠ গরম করে তুলে। সে নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু ছিল ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক। যদিও অভিযোগ আছে ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ভারতের সঙ্গে একটা সমঝোতা এবং দরকষাকষি করেই নির্বাচন করেছিল।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নতুন মেরুকরণ হয়েছে। এবারে ৩০ ডিসেম্বরে যে সংসদ নির্বাচন হচ্ছে, সেই নির্বাচন উপলক্ষে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো তাঁদের নির্বাচনী ইশতেহারের খসড়া চূড়ান্ত করে ফেলেছে। এই খসড়া ইশতেহারের কোনোটাতেই ভারত বিরোধিতা নেই।

আওয়ামী লীগ বরাবরই ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে ন্যায্য দাবি আদায়ের কথা বলে আসছে। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেখা যায় আওয়ামী লীগ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই দাবি দাওয়া আদায়ের কথা বলেছে। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলে থাকা দু’দেশের ছিটমহলবাসীদের বহুদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ হয়েছে নতুন ভূমি। ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি করেছে, নানা বাণিজ্য চুক্তি করেছে। বর্তমানে দু’দেশই বলছে যে বাংলাদেশে এবং ভারতের সম্পর্ক সবচেয়ে ভালো সময় পার করছে।

বিগত সময়ে বিএনপি ভারতের বিরোধিতা করলেও বর্তমানে সময়ে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। প্রথমত বিএনপি তিন নেতা ভারত সফর করেছেন, লন্ডনে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বিএনপির যে সম্পর্কের উত্তরণ ঘটেছে, সেই সম্পর্ককে তাঁরা এগিয়ে নিতে চান। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের সঙ্গে দফায় দফায় যে বৈঠক হচ্ছে সেখানে বিএনপি একটা বিষয়েই বারবার অঙ্গীকার করে বলছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে যা যা করা দরকার তাই করবে বিএনপি। অর্থাৎ দুই যুগ আগেও যে বিএনপি তীব্র যে ভারত বিরোধিতার মনোভাব ছিল, সেই মনোভাব এখন আর নেই। এবারের জাতীয় নির্বাচনে দলগুলোর ইশতেহারে যুদ্ধংদেহী ভাব আছে, তীব্র প্রতিযোগিতাও আছে।  তবে একটা বিষয়ে সকল রাজনৈতিক দল একমত, সবাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখার বিষয়ে উদগ্রীব। এই বিষয়টাকে বাংলাদেশে রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব বলয় মনে করছেন অনেকে।

আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে ভারতের সঙ্গে তাঁরা কি বিষয়ে অর্জন করেছে তার একটা ফিরিস্তি দিচ্ছে। ভবিষ্যতে তাঁরা ভারতের সঙ্গে বর্তমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে। আওয়ামী লীগের মূল যে পররাষ্ট্র নীতি সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, পরিকল্পিত একটা সুসম্পর্ক রাখার বিষয়টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্ব পাচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপি সবসময় যারা ভারত বিরোধী বলে পরিচিত তারা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ায় এবং বাংলাদেশের মাটিতে যেন কোন জঙ্গি-বিচ্ছিন্নবাদিতার স্থান না হয় সেই বিষয়ে অঙ্গীকার করাসহ আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে ন্যায্য দাবি আদায়ের কথা বলা হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচনী ইশতেহারেও মোটামুটি একই বিষয় উল্লেখ করা হচ্ছে। এছাড়াও দেশের বাম গণতান্ত্রিক যে জোটসহ অন্যান্য যে দলগুলো আছে তারাও ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা বলছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনে একটা সময় ছিল ভারত বিরোধিতা করে ভোটের বাক্স ভরা। সেই অবস্থান থেকে ভারত যে বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের মন জয় করতে পেরেছে, সেটা ভারতের কূটনৈতিক বড় অর্জন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বাংলা ইনসাইডার/আরকে/জেডএ