ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

১০০ আসনে জামাতের শুভাকাঙ্ক্ষী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ পিএম
১০০ আসনে জামাতের শুভাকাঙ্ক্ষী

এবারের নির্বাচনে স্বাধীনতা বিরোধী এবং যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামাতে ইসলামীর সমর্থক অন্তত ১০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচন নিয়ে জামাতের গোপন মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি জামাতের ২৫জন প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছে। কিন্তু জামাত বলছে বিভিন্ন দলে তাঁদের সমর্থক শুভাকাঙ্ক্ষী আরও ৭৫ জন প্রার্থী রয়েছে।

জামাত আশা করছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির পরেও আগামী জাতীয় সংসদে জামাত সমর্থকরা ৫০টি আসনে বিজয়ী হবে। এটা তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথে এক বড় পদক্ষেপ বলে তারা মনে করছে। উল্লেখ্য, একাত্তরের ঘাতক গোলাম আজম ১৯৯১ সালে জামাতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শীর্ষক এক মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। ঐ মূল্যায়ন প্রতিবেদনে ২০৩০ সালের মধ্যে জামাতের ক্ষমতায় যাওয়া এবং বংলাদেশকে ইসলামী রাষ্ট্র হিসবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল। ঐ মূল্যায়ন প্রতিবেদন জামাতের মজলিশে সুরায় অনুমোদন হয়। ৯২ সালের ঐ মজলিশে সুরার বৈঠকেই, গোলাম আজমকে প্রকাশ্যে জামাতের আমির হিসেবে ঘোষণা করা হয়। জামাত তার গোপন প্রতিবেদনে বলেছে, জামতের নেতা-কর্মীদের উপর বর্বর নিপীড়ন নির্যাতনের পরও জামাত এখন আগের চেয়ে শক্তিশালী হয়েছে। সাথী কর্মীরা আগের চেয়েও নিবেদিত হয়েছেন ইসলাম প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচনে জামাত তাঁর নিজস্ব প্রতীক দাড়িপাল্লা নিয়ে নির্বাচন না করলেও কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।’

জানা গেছে, ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামাতের ২৫ জন নির্বাচন করছেন। আরও দশজন জামাতের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। বিএনপি করেন কিন্তু জামাতের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী এমন প্রার্থী আছেন ১২ জন। এছাড়াও ২০ দলের শরিকদের মধ্যে ‘গোপন জামাত’ আরও তিনজন মনোনয়ন পেয়েছেন। জাতীয় পার্টিতে থাকা জামাতের ৫জন এবার লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়া বিভিন্ন ইসলামী দলে থাকা জামাতের আরও ২২ জন এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আওয়ামী লীগেও অন্তত ৪জন মনোনয়ন পেয়েছেন যারা জামাতের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সমর্থক। এছাড়াও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টেও জামাতের শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে বলে জামাত সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। খোজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একজন শীর্ষ নেতা জামাতের ঘনিষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে জামাতের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বিএনপিতে যোগ দেওয়া এক নেতাও জামাত সমর্থক। জামাতই তাঁকে বিএনপিতে যেতে তদবির করেছে। জামাত মনে করছে, সময় ও সুযোগ মতো তাঁদের শুভাকাঙ্ক্ষীরা প্রকাশ্য হবে।  

বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ