ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

নির্বাচন থেকে সরে যাবেন এরশাদ?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ০৬:০০ পিএম
নির্বাচন থেকে সরে যাবেন এরশাদ?

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নাও নিতে পারেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন বলে জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তবে, জাতীয় পার্টির একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন ‘এরশাদকে সরকার বিশ্বাস করতে পারছে না। এজন্য সরকার চাইছে, জাতীয় পার্টি নির্বাচন করুক এরশাদকে ছাড়া।’ জাতীয় পার্টির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করতে রাতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন জাপা নেতারা। বৈঠকে জাতীয় পার্টির নতুন মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ থাকবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও রওশন এরশাদেরও ঐ বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা। এই বৈঠকে শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির কারা এবং কতজন মনোনয়ন পাবেন তা চূড়ান্ত হবে। আওয়ামী লীগ এখনো ৪৭টি আসন শরিকদের জন্য খালি রেখেছে। এখানে কয়েকটি আসন ইসলামী দলগুলোর জন্যে রেখে ৪০ থেকে ৪২টি আসন আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিকে দিতে চায়। জাতীয় পার্টির একজন নেতা বলেছেন, ‘আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোন সমস্যা নেই। প্রধানমন্ত্রী যে কটি আসন দেবে সেটা নিয়ে খুশি থাকবে জাতীয় পার্টি।’

একাধিক সূত্র জানায়, এরশাদের বিশ্বাসঘাতকতায় শুধু আওয়ামী লীগ নয়, জাতীয় পার্টির শীর্ষ নেতারাও হতাশ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতীয় পার্টির একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পার্টির জন্য কিনা করেছেন। অথচ নির্বাচন এলেই এরশাদ সাহেব একটা উল্টাপাল্টা করেন। এটা নিয়ে আমরাই একটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পরি।’ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনে জাতীয় পার্টি লাঙল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যে কোনো সময়ে এরশাদ ডিগবাজী দিতে পারেন, এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেজন্যই জাতীয় পার্টির কো-চেয়ার রওশন এরশাদকে নির্বাচনে না রাখার পক্ষে মোট দিয়েছেন। এরশাদের রংপুর-৩ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা। তাঁকে ঢাকা-১৭ আসনও দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিশ্বাস ভঙ্গের জন্য ঐ আসনটি আওয়ামী লীগ রেখে দিয়েছে। তবে, আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় একাধিক নেতা বলেছেন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের ব্যাপারে তিনটি বিকল্প ভাবছে সরকার। প্রথমত; বয়স্ক হবার কারণে তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করিয়ে তাঁকে অবসরে রাখা। দ্বিতীয়ত; অসুস্থতার জন্য তাকে দলের চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেয়া যেন, নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন। তৃতীয়ত; যে অবস্থায় আছে সে অবস্থায় রেখে নির্বাচন পার করে দেওয়া। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ এবং জাপার শীর্ষ নেতারা আলোচনা করে আজ রাতেই এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ার জি এম কাদের অবশ্য বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির কোন সমস্যা নেই। এরশাদ সাহেব বয়স্ক এবং অসুস্থ। এজন্য কিছু সমস্যা আছে।’ শেষ পর্যন্ত এরশাদ নির্বাচন থেকে সরে যাবেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে জি এম কাদের বলেন, ‘এটা একান্তই তাঁর সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে আমি কিছু জানি না।’

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ