ঢাকা, শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

অচেনা নির্বাচনী মাঠে আ. লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৯:০২ পিএম
অচেনা নির্বাচনী মাঠে আ. লীগ

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে যেন অচেনা মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। হোম গ্রাউন্ডের অ্যাডভান্টেজ হারাল দশ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটি। যাদের দুধে ভাতে পুষেছেন তাঁরাই প্রতিপক্ষ হয়ে উঠল। ১৩২টি আসনে জাতীয় পার্টি আলাদা প্রার্থী দিয়েছে, জাসদ (ইনু) দিয়েছে ৪ টিতে আর ২৭ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। আওয়ামী লীগের নেতারাই স্বীকার করছেন, নির্বাচনে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি তাঁরা। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেভাবে তাঁরা নির্বাচন চেয়েছিলেন, সেভাবে ঘটনা এগুচ্ছে না। পরিস্থিতি ক্রমেই তাঁদের ‘নাগালের বাইরে’ চলে যাচ্ছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই একের পর এক ঘটনা আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যাচ্ছে। যেমন:

১. আওয়ামী লীগ আশা করছিল যে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হলে শেষ পর্যন্ত ২০ দল থাকবে না। জামাত বিএনপি থেকে আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু জামাত- আর বিএনপি যেন তামাক আর ফিল্টার। তারা শেষ পর্যন্ত অটুট থাকলো।

২. আওয়ামী লীগ চেয়েছিল, বিএনপিতে মনোনয়ন নিয়ে, নির্বাচন করা না করা নিয়ে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়বে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে শরিকরা বিভক্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে অনেক কিছু হয়েছে, কিন্তু বিভক্তি হয়নি। যেমনটি আওয়ামী লীগ আশা করেছিল।

৩. আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, একই আসনে বিএনপির একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে বিএনপিতে লেজে গোবরে পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে। কিন্তু এটা যে বিএনপির বিদ্রোহ দমনের কৌশল ছিল, তা পরে বুঝতে পারে আওয়ামী লীগ।

৪. মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর আওয়ামী লীগ ধারণা করেছিল বিএনপির অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী হয়তো মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন। তাদের প্রার্থিতা বাতিল হবে। অনেক আসনে হয়তো বিএনপি প্রার্থীই পাবে না। কিন্তু আপিলে দেখা গেল বিএনপির উল্লাস। বিএনপির কাঙ্ক্ষিতরা ঠিকই আপিলে উতরে গেলো।

৫. আওয়ামী লীগের স্থির বিশ্বাস ছিল, এরশাদ শেষ পর্যন্ত বিশ্বাসঘাতকতা করবেন না। মহাজোট অটুট থাকবে। গত দশ বছরে কী পান নি এরশাদ, জাতীয় পার্টির নেতারা? প্রধানমন্ত্রীর ‘বিশেষ দূত’ হঠাৎ যমদূত হিসেবে আওয়ামী লীগের সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এরশাদ আজ রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে, এত আপ্যায়ন আদর ভুলে ১৩২ আসনে একক ভাবে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিলো।  এটা সম্ভবত গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় ধাক্কার একটি।

৬. শুধু এরশাদ নয়, আওয়ামী লীগের চেয়েও বেশি আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠা হাসানুল হক ইনুও ৪ আসনে মশাল জ্বালিয়ে দিলেন। কোনো গবেষণা ছাড়াই বলা যায়, জেতার জন্য নয়, আওয়ামী লীগকে চাপে ফেলতেই ইনুর এই পদক্ষেপ। প্রশ্ন উঠেছে আওয়ামী লীগে, তাহলে ইনুও?

এভাবেই চেনা মাঠ, চেনা মানুষ অচেনা হয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কেউ কেউ বলছেন, অপেক্ষা করুন, আরও অনেকের রংবদল হয়ে যাবে। রংবদলের এই খেলায় একটু কি বিব্রত আওয়ামী লীগ? 

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ